বরাক তরঙ্গ, ২৮ সেপ্টেম্বর : গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়া হত্যাকাণ্ডে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। ইতিমধ্যে পুলিশের হেফাজতে থাকা আশিক আলি নিমিষাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিম গুয়াহাটির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলীন দেউরী।
সোমবার গোটা ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা দেউরী জানান, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন নিমিষা ও আশিক ওই হোমস্টেতে যেতেন। ঘটনার দিনও দু’জন মদ্যপান করেছিলেন। এরপর তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং সেই সময়ই নিমিষাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
নিমিষাকে হত্যার সময় আশিকের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
নিমিষার মায়ের করা বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পুলিশ কর্মকর্তার কথায়, রাত ২টা ২ মিনিটে নিমিষা তাঁর মাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ‘ওরা আমাকে বুকে লাথি মারছে।’ ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হোমস্টের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিমিষার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মুখ দিয়েও রক্ত বেরিয়েছিল বলে জানান তিনি।
হোমস্টের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই নিমিষা ও আশিককে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল, যা আইনবিরুদ্ধ। তাঁদের বিয়ে না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়াই হোমস্টেতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সংস্কার ও মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজ সুস্থ থাকবে। পাশাপাশি প্রত্যেকের নিজের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে আশিক আলির বিরুদ্ধে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। নিমিষা ও আশিক মাদক গ্রহণ করতেন বলে যে আলোচনা চলছে, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, পুলিশ গ্রেফতার করা আশিক আলিকে সোমবার আদালতে হাজির করে। আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।



