মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ সেপ্টেম্বর : শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পাথারকান্দি প্রেমময়ী সিনিয়র বেসিক স্কুলে পালিত হলো পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মজয়ন্তী। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। জোড়বাড়ি হাজি কাছিম আলি হাইস্কুলের ছাত্রীদের পরিবেশিত উদ্বোধনী সঙ্গীত অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। আলোচনা সভায় বিদ্যাসাগরের জীবন, কর্ম, শিক্ষা-চিন্তা, সমাজ সংস্কার এবং মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তব্য রাখেন জোড়বাড়ী হাজী কাছিম আলী হাই স্কুলের শিক্ষক এ. এস. হোসেন আহমেদ, সমাজকর্মী সিদ্ধার্থ শেখর পাল চৌধুরী এবং বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র কুমার দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বিদ্যাসাগর শুধু শিক্ষাবিদ বা সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, তিনি মানবিক মূল্যবোধ, যুক্তিবাদ ও নারীশিক্ষার প্রসারের অন্যতম অগ্রদূত। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুনীতি সিংহ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র কুমার দাস, স্কুল পরিচালনা সমিতির সভাপতি দিলীপ কুমার পাল, সমাজকর্মী সিদ্ধার্থ শেখর পাল চৌধুরী, প্রাক্তন শিক্ষক নবকুমার সিংহ, শিক্ষক এএস হোসেন আহমেদ, অমিতাভ দাস, সঞ্জীব বৈদ্যসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্মের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে তুলতে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা রহমান। দ্বিতীয় হয় একই শ্রেণির ছাত্রী রুজিনা পারবিন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র টোটন পাল। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুনীতি সিংহ। বিদ্যাসাগরের মানবিক আদর্শ, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
জ্ঞান, মানবিকতা ও সমাজ সংস্কারের যে আলোকবর্তিকা বিদ্যাসাগর প্রজ্বলিত করেছিলেন, তাঁর জন্মজয়ন্তীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই আদর্শই নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দিল পাথারকান্দি প্রেমময়ী সিনিয়র বেসিক স্কুল।



