দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ সেপ্টেম্বর : আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ ও শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পূজা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শিলচরে শুরু হয়েছে ত্রি-দিবসীয় পুরোহিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা। শুক্রবার বরাক ব্রাহ্মণ পরিষদ, শিলচরের ব্যবস্থাপনায় এবং শ্রীশ্রী গোপাল জিউর আখড়া পরিচালন সমিতির সহযোগিতায় মন্দিরের প্রেক্ষাগৃহে এই কর্মশালার উদ্বোধন হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মশালার সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের পূর্বোত্তরের প্রচার সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী তত্ত্বানন্দজী মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. সুখময় ভট্টাচার্য, মুখ্য বক্তা লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য, পুরোহিত কেন্দ্রের অধ্যক্ষ অজিত ভট্টাচার্য, পরিষদের সভাপতি অতনু ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী, উপদেষ্টা শরদিন্দু ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
কর্মশালায় ৬০ জনেরও বেশি কর্মরত পুরোহিত অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতি অতনু ভট্টাচার্য অতিথিদের স্বাগত জানান। পরিষদের প্রার্থনা মন্ত্র পাঠের পর দেবাঞ্জন চক্রবর্তী আগমনী সংগীত পরিবেশন করেন।
আলোচনায় ড. সুখময় ভট্টাচার্য শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ ও নির্দিষ্ট বিধি মেনে পূজা-পার্বণ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। স্বামী তত্ত্বানন্দজী মহারাজ বলেন, পূজায় শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি একাগ্রতা ও সাত্ত্বিক ভাব বজায় রাখা জরুরি। তিনি শব্দদূষণ কমানো এবং শাস্ত্রীয় ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য অনুসরণ করে বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
মুখ্য বক্তা লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য পুরোহিতদের সংস্কৃত শিক্ষা, শুদ্ধ উচ্চারণ এবং নির্দিষ্ট ক্রম মেনে পূজা পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যজমান ও পুরোহিতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পূজায় সাত্ত্বিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কঙ্কন ভট্টাচার্য। অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক ভট্টাচার্য। সভা পরিচালনা করেন গৌতম চক্রবর্তী এবং শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সুমন ভট্টাচার্য।



