বরাক তরঙ্গ, ১৯ সেপ্টেম্বর : জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এল সর্বভারতীয় দিব্যাঙ্গজনের সংগঠন ‘সক্ষম’। সংগঠনের পক্ষ থেকে হাইলাকান্দি জেলার লালাছড়া চা- বাগানের দৃষ্টিহীন প্রতিভাবান লোকশিল্পী জয় প্রকাশকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে সম্মান জানানো হয়।
সম্প্রতি স্থানীয় গণেশপূজার মণ্ডপে ‘মন মোর রসনা’ নামে একটি লোকগান গেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন প্রায় ১৮ বছর বয়সী জয় প্রকাশ। জুবিন গর্গের কণ্ঠে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই গানটি জয় প্রকাশ নিজের কণ্ঠে পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। সামাজিক মাধ্যমে গানটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর প্রতিভা বহু মানুষের নজরে আসে।
জয় প্রকাশের এই প্রতিভার কথা জানতে পেরে জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে তাঁকে সম্মান জানাতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লালাছড়া চা বাগানে পৌঁছন সংস্কৃতিকর্মী এবং ‘সক্ষম’-এর প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও বর্তমান প্রান্তীয় সমিতির সদস্য শংকর চৌধুরী এবং সংগঠনের অন্যতম প্রান্তীয় সদস্য গোবিন্দচন্দ্র নাথ। তাঁরা জয় প্রকাশের বাড়ি খুঁজে বের করে তাঁকে সম্মানিত করেন।

‘সক্ষম’-এর পক্ষ থেকে জয় প্রকাশকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান শংকর চৌধুরী। গোবিন্দ চন্দ্র নাথ তাঁর হাতে একটি শার্ট উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে জয় প্রকাশের মা শান্তি দোসাদকে একটি শাড়ি উপহার দেন শংকর চৌধুরী।
কথা প্রসঙ্গে শান্তি দেবী জানান, জন্মের পর থেকেই তাঁর ছেলের চোখে সমস্যা ছিল। বর্তমানে তিনি প্রায় ৯৫ শতাংশ দৃষ্টিহীন। ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিভিন্ন কীর্তন অনুষ্ঠানে যাতায়াত শুরু করেন জয় প্রকাশ এবং সেখান থেকে নানা গান শুনে কণ্ঠস্থ করতে থাকেন। কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী প্রয়াত হন। বর্তমানে বড় ছেলে শিলচরে একটি দোকানে কাজ করে উপার্জনের টাকা বাড়িতে পাঠান। চা-বাগানের রেশনসহ সীমিত আয়-সামগ্রী নিয়ে ছোট্ট ঘরেই তাঁদের সংসার চলে।

হঠাৎ বাড়িতে অতিথিদের উপস্থিতি এবং জয় প্রকাশকে সম্মানিত করার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত হন। পরে জয় প্রকাশ একের পর এক বিভিন্ন লোকগান পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।
জুবিন গর্গের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক প্রতিভাবান দিব্যাঙ্গ শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়ে ‘সক্ষম’-এর এই উদ্যোগ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



