বরাক তরঙ্গ, ১৪ সেপ্টেম্বর : উজান আসামের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করা, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বন্যার কারণ চিহ্নিত করে বিজ্ঞানসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে নাজিরায় এক নাগরিক অভিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার নাজিরার এমসি ক্লাবের প্রেক্ষাগৃহে বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় শিবসাগর, যোরহাট ও চরাইদেও জেলার দুই শতাধিক বন্যাক্রান্ত মানুষসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।
অভিবর্তনে ১০ দফা দাবি গৃহীত, মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ত্রিদীব গগৈর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে বন্যায় নিহতদের স্মরণে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শোকবেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন বেজবরুয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ ফুকন, গড়গাঁও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক চন্দ্রাদিত্য গগৈ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সমাজসেবী যোগ গগৈ এবং গণআন্দোলনের নেতা জীতেন্দ্র চলিহা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় উজান আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি মদতপুষ্ট একটি চক্রের অবৈধ খননকার্যের ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দিখৌ নদীতে অবৈধ খনন বন্ধের বিষয়ে গুয়াহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের নির্দেশ এতদিন কার্যকর না হওয়া নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে সভায় উপস্থিত হতে না পারা ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োগিক ভূ-তত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. যোগেন্দ্র নাথ শর্মার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অন্যতম আহ্বায়ক পঙ্কজ বরা। সভায় মূল প্রস্তাব উত্থাপন করেন যোরহাট আরআরএলের প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক দিলীপ কুমার দত্ত।
অভিবর্তনে বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা, পাহাড় থেকে সমতলে নেমে আসা নদীগুলির গতিপথ ও প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৃথক নদী প্রাধিকরণ গঠনের দাবিসহ মোট ১০ দফা দাবি গৃহীত হয়।
এদিনের সভা থেকে ২১ সদস্যের ‘উজান আসাম বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি কমিটি’ গঠন করা হয়। অধ্যাপক ত্রিদীব গগৈ, যোগ গগৈ, দিলীপ ফুকন, দিলীপ কুমার দত্ত, লাল আলী, দিনেন টায়ে, পুণ্যধর টায়ে ও নরেন দত্তকে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রাখা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হেমন্ত পেগু, দীপক দত্ত, পঙ্কজ বরা ও বিমল পাণ্ডে।
নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্র প্রদান, বিক্ষোভ প্রদর্শন, বিভিন্ন জেলায় গণঅভিবর্তন এবং মানবশৃঙ্খল কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।



