মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : প্রতিবছরের মতো এ বছরও শ্রীভূমিতে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব দিবস পালন করল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খুশি স্মৃতি সংস্থা’। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভানেত্রী সুলেখা দত্ত চৌধুরী, উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরী, অসিত দত্ত, ড. অর্পিতা রাণী দাস, অর্পিতা দাস ধর, পার্থ দাস, সমর্পিত ধর ও বিষ্ণুপদ নাগ-সহ অন্যান্যরা।
বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে মানুষের ঐক্য ও মানবকল্যাণের ওপর জোর দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই দর্শন বর্তমান সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ধর্মীয় বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, জাতিগত বিভাজন ও সংঘাতের আবহে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের বার্তা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের চেতনা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন, দর্শন ও শিকাগো ভাষণ নিয়ে আলোচনা, বক্তৃতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভেদমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে তাঁর আদর্শ আজও গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।



