মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ সেপ্টেম্বর : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে নজরকাড়া সাফল্য পেল শ্রীভূমি জেলার শিল্পীরা। দক্ষিণ অসমের ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজয়ী প্রতিযোগীদের নিয়ে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বে শ্রীভূমির শিল্পীরা চারটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে দুটি বিভাগে প্রথম, একটি বিভাগে দ্বিতীয় এবং একটি বিশেষ/সান্ত্বনা পুরস্কার রয়েছে।
বুধবার বিজয়ী শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জেলার কো-অর্ডিনেটর অরূপ রায় জানান, দক্ষিণ অসমের চার জেলার ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এই সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রায় এক হাজার শিল্পী এতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্য থেকে ১২৬ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। অসম সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় শিলচরে।
শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি, রামকৃষ্ণনগর, উত্তর করিমগঞ্জ ও দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। চূড়ান্ত পর্বে গ্রুপ ‘এ’-তে প্রথম স্থান অর্জন করেন রেশমি সেন। গ্রুপ ‘বি’-তে প্রথম হন স্বরূপ চন্দ। একই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা এলাকার ছন্দবীণা পাল। এছাড়া বিশেষ/সান্ত্বনা পুরস্কার পান অভীক্ষিত চক্রবর্তী।
পুরস্কার অর্জনের পর শ্রীভূমির শিল্পীদের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁদের ফের শিলচরের বঙ্গভবনে গান পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। দিল্লি, গুয়াহাটি-সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
খুশি স্মৃতি সংস্থার উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরী বলেন, ভূপেন হাজরিকার গান ও সঙ্গীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের উৎসাহিত করতেও এই মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ভূপেন হাজরিকা শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর অনন্য শিল্পীসত্তার পরিচয় রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এগিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অসিত দত্ত, অমৃতলাল বণিক, দুই বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সন্ধ্যা রানী কর, শৌভিক রায়, সুরজিৎ সেন, বিষ্ণুপদ নাগ-সহ অন্যান্যরা।



