গৌরব গগৈর মতিভ্রম ঘটেছে!
আব্দুল হক, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : অসমে আগামী বিশ বছরেও কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে না—দলত্যাগী কংগ্রেস নেতাদের এমন ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে সোনাই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে প্রাক্তন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি তথা কংগ্রেস দলত্যাগী পোড় খাওয়া নেতা আক্তার হোসেন বড়ভূইয়া (আক্কা) এবং এপিসিসি যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ইজাজ হোসেন লস্কর অসম কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।
তাঁরা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে অসম কংগ্রেসের হালহকিকত সম্পর্কে অবগত হয়েই তাঁরা দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। আক্কা জানান, নির্বাচনের আগমুহূর্তে অর্থাৎ ১৬ মার্চ জেলা কংগ্রেস সভাপতির কাছে লিখিত হলফনামা দিয়ে তিনি কংগ্রেস দল ত্যাগ করেন। জেলা সভাপতি তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে তাতে স্বাক্ষরও করেন।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ১৮ আগস্ট প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈর নির্দেশে দল থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কারের ১৪ জনের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন আক্কা।
তাঁর দাবি, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে ইস্তফা দেওয়ার পরও দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা কার্যত প্রমাণ করে যে গৌরব গগৈ সাংগঠনিক নীতি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, দলে নেই এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া মূলত তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার পরিকল্পনা।
আক্কা আরও বলেন, এসব চক্রান্তের মূলে রয়েছে সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে অসমে কংগ্রেস ক্ষমতা দখল করবে এবং গৌরব গগৈ মুখ্যমন্ত্রী হবেন—আমিনুলের এমন প্রচারের যোগ্য জবাব পাওয়ার সময় বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, অসমে কংগ্রেস দল অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে—এটা সংখ্যালঘু মুসলিমদের বুঝতে বাকি নেই। নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষে থাকা সাধারণ ভোটারদের অনেকেই আজ আমিনুলের সঙ্গে নেই। অনেকে মোক্ষম জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই সোনাইয়ে আমিনুলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেন আক্কা।
অন্যদিকে, কংগ্রেস দলত্যাগী পোড় খাওয়া কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ইজাজ হোসেন লস্কর দলত্যাগীদের বহিষ্কারের নির্দেশকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৭ মার্চ কংগ্রেসের সাংগঠনিক নীতি অনুযায়ী সভাপতির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। অথচ ১৪ জনের বহিষ্কার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার চক্রান্ত।
ইজাজও এসব চক্রান্তের জন্য সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, সাংগঠনিক নিয়মনীতি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈকে বোকা বানিয়ে আমিনুল নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা করলেও তা সফল হবে না।
ইজাজ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর অসম কংগ্রেসের হালহকিকত সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভাবিয়ে তুলেছে। কংগ্রেস নেতারা সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিপাকে ফেলে দলকে মুসলিম লিগে পরিণত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছেন—এমন ঘটনায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা উদ্বিগ্ন বলেও দাবি করেন তিনি। শিলচর পুরনির্বাচনে এর যোগ্য জবাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন ইজাজ।
তিনি আরও বলেন, শিলচর পুরনির্বাচনে বিধায়ক তাঁর ছেলের জন্য কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী। কিন্তু অগপ ও নির্দল প্রার্থীদের ধাক্কায় শেষ পর্যন্ত টিকিট দাবি থেকে পিছিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল।
ইজাজের দাবি, বিজেপি কোনও পারিবারিক দল নয় এবং তাদের সাংগঠনিক নীতিও অনেকটা মজবুত। সম্প্রতি কাছাড় কলেজে হিজাব বিতর্কে বিজেপি নীরব ভূমিকা পালন করে সংখ্যালঘু মুসলিমদের আস্থা অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রী কৌশিক রাই, সুস্মিতা দেব-সহ জেলা প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইজাজ।
তিনি আরও বলেন, কয়েক যুগের মুখ্যমন্ত্রীদের টেক্কা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার পরিচালনার বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছেন—এমন আলোচনা গোটা অসমে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে শুরু হয়েছে। সবশেষে আক্কা ও ইজাজ ভবিষ্যদ্বাণী করেন, দীর্ঘ বিশ বছরেও অসমে কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন অধরা থাকবে এবং কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।



