বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : শিবসাগরের বেতবাড়ি দিশাং মাঝগাঁওয়ে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের একটি নালা থেকে শনিবার দুই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার দিনের বেলা বলিয়াঘাটের দুই যুবক অভয় হাজরিকা (২১) এবং মানস দাস (২৩) একটি এফজেড বাইক নিয়ে ঢেকিয়াখাওয়া বরনামঘরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। রাতের মধ্যেও দু’জন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শনিবার সকালে প্রথমে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের একটি বহমান নালা থেকে অভয় হাজরিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে AS-04-AD-3552 নম্বরের এফজেড বাইকটিও উদ্ধার করে পুলিশ। বলিয়াঘাট থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের দিশাং মাঝগাঁওয়ে উদ্ধার হওয়া অভয় গড়গাঁও কলেজে আইটিআই-তে পড়াশোনা করছিলেন। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর অভয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া স্থান থেকে মাত্র দুই-তিন মিটার দূরে একই নালা থেকেই মানস দাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে মানসের স্যান্ডেল জাতীয় সড়কের পাশে এবং একটি হেলমেট নালার ভেতর উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিবার তথা বিভিন্ন সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সদৌ অসম তপশিলি জাতি ছাত্র সংস্থা এবং অভয় হাজরিকার পরিবার ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি নালা-নর্দমার কাজ অসম্পূর্ণ ও উন্মুক্ত হয়ে থাকার কারণেই ঘটনার পর মৃতদেহ সেখানে ফেলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে NHIDCL-এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পরশজ্যোতি দাস মানস দাসের সঙ্গে এক যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করে এই ঘটনার সঙ্গে সেই সম্পর্কের কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান।
ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে তপশিলি জাতি ছাত্র সংস্থা ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পথ অবরোধের পর উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দিলে প্রতিবাদ স্থগিত রাখা হয়।
এরপর পুলিশ দু’জন যুবকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে



