২ সেপ্টেম্বর : প্রলয়লীলার ৯ দিন কেটে গেলেও এখনও থমথমে নেপাল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫৯-এ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এই ধ্বংসস্তূপ ও চরম উৎকণ্ঠার মাঝেই সামনে এল এক অবিশ্বাস্য ও স্বস্তির খবর। রাসুয়ার ত্রিশূলী 3A জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেল থেকে দীর্ঘ নয় দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুজনকে।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য তথা নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সাংসদ ও পেশায় ইঞ্জিনিয়ার শ্রীরাম নিওপানে জানান, ওই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলের ভিতর থেকে গোঙানির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়ে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবীর মহারাজনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। গত ২৬ অগাস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে ওই টানেলেই প্রায় ৪০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। উদ্ধারকারীদের দাবি, টানেলের ভিতর থেকে এখনও কিছু শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, যা নতুন করে জীবন উদ্ধারের আশা জোগাচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতর জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি নামানো হয়েছে।
তবে সব জায়গায় এমন সুখবর নেই। রাসুওয়ার ল্যাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে নেপাল সেনা। ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ওই প্রকল্পে কর্মরত ৪১ জনের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পেছনে ভারত, চিন এবং আমেরিকার ব্যাপক দূষণকেই দায়ী করছে নেপাল সরকার। দেশটির বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানিয়েছেন, এই তিন প্রধান দেশের বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলেই আজ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে নেপালকে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুবাদে এই তিন দেশের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় এই বিস্ফোরক বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ।



