বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : রাজ্যের পরিকাঠামো ও উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে ‘বিকশিত অসম: ইনফ্রা ভিজন’ প্রকল্পের অধীনে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে অনুমোদন দিল অসম মন্ত্রিসভা। রবিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় রাজ্য সরকার নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে। পাশাপাশি সাত বছরের জন্য নাবার্ডের কাছ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এদিন নাবার্ডের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সমঝোতাতেও মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
এদিকে, গুয়াহাটিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রোটন বিম থেরাপি সেন্টার তৈরির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা চালু হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনস্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে অসম হবে দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে প্রোটন বিম থেরাপি উপলব্ধ থাকবে। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৩১৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এবং বাকি ২৮৫ কোটি টাকা দেবে রাজ্য সরকার।
গোয়ালপাড়া জেলার মাটিয়া রাজস্ব চক্রের রাখ্যাচিনি জঙ্গল ব্লকে ৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কামরূপ মহানগর ও নগাঁও জেলার মোট ১,১৭৪ বিঘা জমি শিল্প, বাণিজ্য ও সরকারি উদ্যোগ দফতরকে শিল্পাঞ্চল ও ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধেমাজি জেলার রঙাজান গ্রামে দুগ্ধ প্রকল্প গড়ে তুলতে পশুপালন ও পশুচিকিৎসা দফতরকে ২৭ বিঘা সরকারি জমি দেওয়ার অনুমোদনও মিলেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে SOPD-G তহবিলের আওতায় গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১০৯.৯৯৫৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে ‘অসম ট্রেড আর্টিকেলস (লাইসেন্সিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) (সংশোধনী) নির্দেশিকা, ২০২৬’-এও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেট্রোলিয়াম পণ্য খুচরো বিক্রির লাইসেন্স ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলিকে ভর্তুকিযুক্ত দামে মসুর ডাল ও চিনি সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রেশন কার্ডধারী পরিবার প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকা এবং চিনি ৩৫ টাকা দরে পাবে।
এছাড়া অসম জেলা আদালত কর্মচারী পরিষেবা বিধিমালা, ২০২৬ এবং অসম মিত্র ও স্বাস্থ্যসেবা পরিষদ বিধিমালা, ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে।
পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের খেরনি চারিআলি থেকে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বামুনগাঁও পর্যন্ত বাইপাস এবং হাওয়াইপুর রেলস্টেশনের কাছে রেল ওভারব্রিজ (ROB) নির্মাণের জন্য SOPD-এর অধীনে ১৫,৫৯৮.১৯ লাখ টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লঙ্কা শহরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘যানবাহন স্ক্র্যাপেজ নীতি, ২০২২’-এর অধীনে আর্থিক প্রণোদনা কার্যকর করতে নিবন্ধিত যানবাহন স্ক্র্যাপিং ফ্যাসিলিটিকে (RVFSF) যোগ্য শিল্প কার্যক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সংশোধনীতেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়াও ‘ফার্মবক্স বায়ো প্রাইভেট লিমিটেড’-এর প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে তেজপুরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।
জল জীবন মিশন ২.০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পানীয় জল ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত কাজের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান ‘সামাজিক কল্যাণ সমিতি’-কে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের ‘ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি’ (VWSC) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা চলতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবেন। অন্য জেলার সুবিধাভোগীরা পাবেন ১,২০০ টাকা করে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জীবন প্রেরণা যোজনা’ এবং ‘সিএম-ফ্লাইট যোজনা’র আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবশিষ্ট পরিবারগুলিকেও ১৫,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



