বরাক তরঙ্গ, ৩০ আগস্ট: কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে, সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্ট’-এর কাছে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে বাংলাদেশে আটক হয়েছেন শ্রীভূমির গোবিন্দপুর গ্রামের ৩৫ বছরের জেলে বলাই নমঃশূদ্র। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবা পাচারের অভিযোগ এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বলাইয়ের স্ত্রী মমতা নমঃশূদ্রের দাবি, তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাল থেকে মাছ আনতে সীমান্তের কাছে যান বলাই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন এবং পরে শ্রীভূমি সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ওই দিনই বাংলাদেশ থেকে একটি ফোন করে বলাইয়ের ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ও পাসপোর্টের কপি চাওয়া হয়। তাঁকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে আটক করা হয়েছে এবং নথি যাচাইয়ের পর ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু নথি পাঠানোর পর আর যোগাযোগ করা যায়নি।
পরে বিজিবির সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ভিডিয়ো থেকে বলাইয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগের কথা জানতে পারে পরিবার। বিজিবির দাবি, ২৭ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্তে ভারতীয় একটি চোরাকারবারি দলের সঙ্গে তাদের গুলির লড়াই হয়। সেখান থেকে একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ওই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি।
তবে অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। শ্রীভূমি পুলিশ ও বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বিএসএফ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না।
গোবিন্দপুরসহ সীমান্তের কাছে কাঁটাতারের বাইরে থাকা কয়েকটি গ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আট বছর আগে একই গ্রামের বিনন্দ নমঃশূদ্রকেও বিজিবি আটক করেছিল। প্রায় এক বছর বাংলাদেশে থাকার পর তিনি মুক্তি পান। ফলে বলাইয়ের পরিবারও দ্রুত তাঁর দেশে ফেরার আশায় রয়েছে।



