২৯ আগস্ট : দু’দিনের সরকারি সফরে শনিবার উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানালেন স্বয়ং উজ়বেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জ়িয়োয়েভ।বিশেষ সৌজন্যের নজির হিসেবে বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিজের গাড়িতে নিয়ে যান মির্জিয়োয়েভ। এই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা বহন করছে। একইসঙ্গে সে দেশের প্রবাসী ভারতীয়রাও ‘বন্দে মাতরম’ রবে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। হাতে বেঁধে দেন রাখিও।
তাশখন্দে পৌঁছে মির্জ়িয়োয়েভের এই বিশেষ সৌজন্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে মোদী লেখেন, ‘মির্জ়িয়োয়েভের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং এই বিশেষ সৌজন্যে তিনি কৃতজ্ঞ।’ উজবেকিস্তানে এটি তাঁর চতুর্থ সফর বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বার বার এই সফর ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা এবং ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিরই প্রতিফলন।
মোদীর এই সফরের মূল লক্ষ্য ভারত-উজবেকিস্তানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করা। প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই রূপরেখাও নির্ধারণ করতে পারেন দুই নেতা।
মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার ক্ষেত্রেও মোদীর এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উজবেকিস্তান সফরের পর প্রধানমন্ত্রী কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে যাবেন। সেখানে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
বিশকেকে SCO সম্মেলনের পাশাপাশি কিরগিজ় প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এবং অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করতে পারেন মোদী। পাশাপাশি ষষ্ঠ World Nomad Games-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।



