২৯ আগস্ট : বিধ্বস্ত নেপালে আটকে পড়া ভারতীয়দের অবস্থা কীরকম? শুক্রবার রাতে বিদেশমন্ত্রক থেকে সোশাল মিডিয়ায় ভারতীয়দের অবস্থা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে হড়পা বানে তছনছ অবস্থায় অবশেষে ‘হুঁশ’ ফিরল কাঠমাণ্ডুর। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নেপাল জানিয়েছে, বিদেশি সাহায্য নিতে তারা প্রস্তুত। যার মধ্যে ভারতও থাকছে।
নেপালে প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০০ জনের। নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রচুর ভারতীয় আছেন। শুক্রবার রাতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এখনও ৩২০ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চিন থেকে নেপালে পৌঁছনো ১৪৯ জন ভারতীয় নাগরিকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এখনও ৪০০ জন ভারতীয় নিরাপদে চিনে রয়েছেন। যাঁদের সঙ্গে বিদেশমন্ত্রক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ৮৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাদের জন্য ২১ জন নিরাপদে তামিলনাড়ুতে ফিরেছেন। ৬৩ জন ত্রিশূলি-১ প্রজেক্টে কাজ করতেন।
অন্যদিকে বিদেশি সাহায্য নিতে শেষমেশ রাজি হল নেপাল। শুক্রবার দুপুরে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়ে ছিলেন, “ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপাতত বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” কিন্তু তারপর আন্তর্জাতিক মহল থেকে ব্যাপক চাপ আসতে থাকে। কারণ বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকই নিখোঁজ হতে পারে। যার মধ্যে ভারতীয়দের তালিকা প্রচুর। চাপের মুখে শেষমেশ বিদেশি সাহায্যের দিকে ঝুঁকল কাঠমাণ্ডু।
সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক জানিয়েছেন, “আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের উপর প্রচণ্ড চাপ আসছিল। অন্তত সন্ধানকারী ও উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চায় তারা। কারণ তাদের নাগরিক নিখোঁজ। কিছু নির্দিষ্ট জায়গার জন্য আমরা সেই ছাড়পত্র দিচ্ছি।” পরে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব তাঁরা কখনই প্রত্যাখ্যান করেননি। তবে নেপালের সেনাবাহিনীই এক্ষেত্রে উদ্ধারের যাবতীয় কৌশল তৈরি করবে। কারণ তারা পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞ। পাশাপাশি নেপাল সরকার ৪২টি বেইলি সেতু নির্মাণে সাহায্যের জন্য নেপাল ভারত ও চিনকে অনুরোধ করেছে।



