বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : ডিমা হাসাও জেলাকে শিলচরস্থিত ‘Assam Secretariat, Barak Valley, Silchar’-এর প্রশাসনিক ও কার্যকরী আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করল হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটির কাছাড় জেলা ইউনিট। শুক্রবার বিকেল ৩টায় বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দপ্তরের যুগ্মসচিবের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কমিটির বক্তব্য, বর্তমানে কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিকে নিয়ে শিলচর থেকে যে আঞ্চলিক সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার পরিধি ডিমা হাসাও পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হলে দক্ষিণ অসমের প্রশাসনিক পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে। কমিটির দাবি, ডিমা হাসাওয়ের সঙ্গে শিলচরের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পরিষেবার জন্য ডিমা হাসাওয়ের বহু মানুষ শিলচরের উপর নির্ভরশীল। শিলচর–হাফলং সড়কপথ এবং লামডিং–শিলচর রেলপথ দুই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও শিলচরের সঙ্গে ডিমা হাসাওয়ের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। Assam University, G.C. University, NIIT, Barak Valley Engineering College, Silchar Polytechnic-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিমা হাসাওয়ের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও শিলচরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন পাহাড়ি জেলার বাসিন্দারা।
কমিটির দাবি, ২০১১ সালের জনগণনা ও ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত হিসাব অনুযায়ী কাছাড়, শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি ও ডিমা হাসাও—এই চার জেলার মোট প্রক্ষেপিত জনসংখ্যা প্রায় ৪৫.১৭ লক্ষ। এর মধ্যে ডিমা হাসাওয়ের প্রক্ষেপিত জনসংখ্যা প্রায় ২.৫২ লক্ষ। ফলে ডিমা হাসাওকে আঞ্চলিক সচিবালয়ের আওতায় আনা হলে আরও প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ শিলচর থেকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে কমিটির মত।
ডিমা হাসাও পাহাড়ি ও দুর্গম জেলা হওয়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়েছে। সরকারি কাজের জন্য গুয়াহাটি পর্যন্ত যাতায়াতের পরিবর্তে শিলচরকে আঞ্চলিক প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হবে।
তবে কমিটি স্পষ্ট করেছে, ডিমা হাসাওকে শিলচরস্থিত আঞ্চলিক সচিবালয়ের আওতায় আনার দাবি জেলার বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বা ভৌগোলিক পরিচয় পরিবর্তনের দাবি নয়। ডেপুটি কমিশনারসহ জেলা প্রশাসনের বর্তমান কাঠামো বহাল থাকবে। মূলত শিলচরস্থিত আঞ্চলিক সচিবালয় এবং সেখান থেকে পরিচালিত রাজ্য সরকারের দপ্তরগুলির কার্যকরী পরিধি সম্প্রসারণের দাবিই জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বন ও পরিবেশ, পূর্ত, সড়ক, জলসম্পদ, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন দপ্তরের পরিষেবা ডিমা হাসাওয়ের মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে, বরাক উপত্যকার উপযুক্ত স্থানে গৌহাটি হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি ডিমা হাসাওবাসীর সমর্থনের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াতের সময় ও বিদ্যমান আঞ্চলিক সম্পর্ক—হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবির ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ডিমা হাসাওকে শিলচরস্থিত আঞ্চলিক সচিবালয়ের আওতায় আনার ক্ষেত্রেও তা প্রাসঙ্গিক। স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে ডিমা হাসাও জেলার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে দাবির প্রতি সংহতি জানান। উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ধ্রুব কুমার সাহা, প্রসেনজিত দেব, তৈমুর রাজা চৌধুরী, শান্তুনু নায়েক, বিভাশ রঞ্জন দেব, পেরাম ওয়ালুংভেনেওমি, পামা চক্রবর্তী, ধর্মানন্দ দেব, দেবোমিতা চক্রবর্তী, জ্যোতির্ময় নাথ, প্রতিমা ঘোষ, সুপর্ণা চৌধুরী, সিহাব উদ্দিন, সাধন পুরকায়স্থ, সুমিতা ঘোষ, পান্না চক্রবর্তীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রতিনিধিরা।
কমিটির আশা, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ডিমা হাসাওকে সঙ্গে নিয়ে শিলচরস্থিত আঞ্চলিক সচিবালয়ের কার্যকরী পরিধি সম্প্রসারণে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনকে সত্যিকার অর্থে জনমুখী করতে হলে মানুষের সময় ও যাতায়াতের কষ্ট কমিয়ে সরকারি পরিষেবা নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।



