শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : কাছাড় জেলার কাটিগড়া থানার অন্তর্গত নুননগরে দলবদ্ধ হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় মকসুদ আমিন বড়ভূঁইয়া নামে এক যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কাটিগড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে আব্দুল বক্কর বড়ভূইয়া, তাজির আলি বড়ভূইয়া ও আইনুল হক বড়ভূইয়াকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার রাত থেকে নুননগর এলাকায় স্বপন দাসের ক্ষেতের জমিতে মাছ মারার কাজে ছিলেন মকসুদ আমিন বড়ভূইয়া। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা তাঁকে অশ্লীল গালিগালাজ দেন, এবং প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন বলে এজাহারে দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় মকসুদ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর চিৎকার ও পরিস্থিতি টের পেয়ে আশপাশের গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শুক্রবার নিজের কুড়ে ঘরে আহত অবস্থায় শুয়ে বসে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মকসুদ আমিন বড়ভূঁইয়া জানান, হামলার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। শরীরের প্রত্যেকটি জয়েন্টে ভীষণ ব্যথা রয়েছে। চলাফেরা করতে পারছেন না। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে অসহায় অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। তবে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইতিমধ্যে কাটিগড়া পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার প্রকৃত কারণ কী, ঘটনায় কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা – এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে হামলার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুননগর এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আহত যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।



