১৮ আগস্ট : প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরকে বরখাস্ত করেছে সংস্থাটি।
সোমবার সন্ধ্যায় ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের ইমেইলে জানান, ফিফা এবং লামুর “সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ফিফার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফিফা এবং কেভিন লামুরের কর্ম-সম্পর্ক শেষ হয়েছে। ফিফা তার দুই বছরের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।”
গত মাসে লামুর ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনাকে “একজন ব্যক্তির প্রকল্প” বলে অভিহিত করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন, ফিফার প্রশাসনকে এ বিষয়ে “প্রতারণা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের মিশন হলো ফুটবলকে সেবা দেওয়া। একজন প্রেসিডেন্টকে মানুষকে একত্রিত করতে হবে, অনুপ্রাণিত করতে হবে। আজ আমরা তার বিপরীত অভিজ্ঞতা অবলোকন করছি।”
নিজের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “যদি এর মানে হয় আমি চাকরি হারাই, তবে তাই হোক। অন্তত আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব।”
লামুর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় যোগ দেন, এর আগে তিনি উয়েফার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তিনি ইনফান্তিনোর নিচে দুই স্তরের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইনফান্তিনো সিনিয়র নির্বাহীদের সমর্থন পান, তবে লামুরকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে গ্রাফস্ট্রম লিখেছেন, “সাম্প্রতিক আলোচনার পর ফিফা এবং আমাদের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সতর্ক বিবেচনার পর এবং কেভিনের প্রতি ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে গভীর শ্রদ্ধা রেখে। আমি তার অবদান ও প্রতিদিনের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।”
এই বরখাস্তকে অনেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সমালোচনার সরাসরি পরিণতি হিসেবে দেখছেন, যা ফিফার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সমস্যার সূত্রপাত মূলত ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত এক পরিকল্পনার কারণে। তিনি ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির অধিকার পরিচালনা করবে। কিন্তু এই কোম্পানির ২১% শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। উয়েফা এমনকি হুমকি দিয়েছিল যে প্রস্তাব কার্যকর হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। এই সময়েই ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোকে সমালোচনা করেন এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন।
যদিও পরিকল্পনা বাতিল করা হয়, তবুও উয়েফা ও কনকাকাফ ঘোষণা দেয় যে তারা আগামী মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সমর্থন দেবে না। অন্যদিকে কনকাকাফের কয়েকটি সদস্য দেশ, যেমন মেক্সিকো, নিজেদের কনফেডারেশনের অবস্থান থেকে সরে এসে ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানায়। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার কনফেডারেশনও তার পাশে দাঁড়ায়।
এদিকে যুক্তরাজ্যের চারটি ফুটবল সংস্থা—ইংল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র—ইতিমধ্যেই সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। সোমবার স্কটিশ এফএও তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে সর্বশেষ সংস্থা হিসেবে তালিকায় যোগ দেয়।
ফুটবল গভর্নেন্স বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফাকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, ইনফান্তিনোকে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াতে দেওয়া উচিত নয়।



