২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের নেতৃত্ব দিতে আজ থেকেই তৈরি হও’: আহ্বান নিরঞ্জন রায়ের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ আগস্ট : “২০৪৭ সালে যখন স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারত ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াবে, তখন দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে আজকের তরুণ প্রজন্মের হাতেই। তাই সেই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নিজেদের এখন থেকেই জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র ও মূল্যবোধে প্রস্তুত করতে হবে” গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানালেন উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়। সোমবার, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এফওয়াইএমপি-র প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের দীক্ষারম্ভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক রায় বলেন, নবীন প্রজন্ম কেবল নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তোলার জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে না; আগামী দুই দশকের মধ্যে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্বের দায়িত্বও তাদেরই গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, “বড় স্বপ্ন দেখো। শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্যও স্বপ্ন দেখো। ২০৪৭ সালে তোমরাই এই মহান দেশের নেতৃত্ব দেবে। ভারতকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সমকক্ষ করে তুলতে হলে তোমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।” উপাচার্য বলেন, ভারতের অন্যতম বড় শক্তি তার বিপুল যুবশক্তি। এই যুবসমাজকে যদি সঠিক শিক্ষা, আধুনিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং মূল্যবোধে গড়ে তোলা যায়, তবে ভারত শুধু একটি বিকশিত রাষ্ট্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে না, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্যও অর্জন করবে। বর্তমান পৃথিবী একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এ পরিণত হয়েছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের জ্ঞান আজ শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয়। তাই এই সুযোগকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শের উল্লেখ করে অধ্যাপক রায় বলেন, শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কেবল উচ্চ নম্বর অর্জন নয়, বরং মানুষ গড়া ও চরিত্র নির্মাণ। তাঁর মতে, একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

ভারতের জনমিতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর নেতৃত্ব আজকের তরুণ প্রজন্মকেই গ্রহণ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে, প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জন করতে এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল, ডিন অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ড. জয়দীপ পাল, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, বিত্ত আধিকারিক অধ্যাপক রণবিজয় দাশ ও বিশ্ববিদ্যালযয়ের গ্রন্থাগারিক ড. সাহানারা চৌধুরী। প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে গণঞ্জাপন বিভাগ দ্বারা নির্মিত তথ্যচিত্র “গুরুচরণ ইউনিভার্সিটি- টু ওয়ার্ড এক্সেলেন্স” প্রদর্শিত হয়। এরপর প্রদীপ প্রোজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এদিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ড. জয়দীপ পাল।

নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল তাঁর বক্তব্যে নবাগত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত একাডেমিক সুযোগ, দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন ও সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিকঠামোগত সুযোগ সুবিধা গুলো নিয়ে পড়ুয়াদের অবহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ র‌্যাগিং-মুক্ত। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্দেশনা তুলে ধরেন। দীক্ষারম্ভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রামাণিক তথ্য অনুসরণের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ড. নাথ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত কোনও তথ্যের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের শুধুমাত্র গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বিভাগীয় নোটিস বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করা উচিত। ড. নাথ নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা,শৃঙ্খলাবদ্ধতা এবং নিষ্ঠাকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। বিত্ত আধিকারিক ড. রণবিজয় দাশ পড়ুয়াদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেন। গ্রন্থাগারিক ড. সাহানারা বেগম চৌধুরী কিভাবে লাইব্রেরির বই ব্যবহার করে জ্ঞান আহরণ করা যায় এনিয়ে বলেন। এদিন বিভিন্ন পর্বে কলা, মানবিক বিদ্যা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দীক্ষারম্ভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সবশেষে রাষ্ট্রগীত ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *