CJI সূর্যকান্তকে সমাবর্তনে প্রধান অতিথি করায় আপত্তি, ৪৫০-র বেশি পড়ুয়ার চিঠি NALSAR কর্তৃপক্ষকে

Spread the news

১০ আগস্ট : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর উপরে বেজায় ক্ষুব্ধ হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সেই নিয়েই উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, অধ্যাপকদের কাছে আপত্তিপত্র পাঠালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০-র বেশি ছাত্রছাত্রী। তাঁদের দাবি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আপত্তিপত্রে প্রধান বিচারপতির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত এবং মন্তব্যের কথা তুলে ধরেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তার মধ্যে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পড়ুয়াদের সংসদ অভিযানের সময়ে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে ২৩ জুলাইয়ের শুনানির কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, শুনানিতে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিয়ো দেখতে রাজি হননি প্রধান বিচারপতি। তাঁদের অভিযোগ, সূর্যকান্ত নাকি বলেছিলেন, ‘আমরা ভিডিয়ো দেখতে আগ্রহী নই, আমাদের সময় নেই।’

প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভারতীয় যুব সমাজকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তবে এই নিয়ে প্রধান বিচারপতি আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে তা মানতে রাজি নন NALSAR-এর পড়ুয়ারা। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘যুব সমাজকে ককরোচ বলা থেকে শুরু করে পুলিশের অত্যাচারের ভিডিয়ো দেখার সময় নেই মন্তব্য থেকে মনে হয়, প্রধান বিচারপতি তাঁদের মতো পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে উদাসীন।’ তাই প্রধান বিচারপতির হাত থেকে সমাবর্তনে ডিগ্রি নেওয়া তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।

তবে পড়ুয়ারা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির পদ নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নয়। সাম্প্রতিক কিছু মামলায় প্রধান বিচারপতির কথাবার্তা ও ভূমিকা আইন পড়ুয়াদের শেখানো সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই তাঁদের মূল প্রশ্ন। পড়ুয়াদের বক্তব্য, একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু ডিগ্রি দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়। সেখানে সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের প্রতি সংবেদনশীল থাকার মতো মূল্যবোধের প্রতিফলনও ঘটা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *