৯ আগস্ট : জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সংগীত কিংবা দেশের মহান বিপ্লবীদের অবমাননা যারা করে, তাদের ভারতে থাকার কোনও অধিকার নেই—এমনই কড়া বার্তা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার লখনউয়ে ঐতিহাসিক কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের ১০১তম বার্ষিকী এবং আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র সূচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন যোগী। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার ফ্ল্যাগ কোডে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে জাতীয় প্রতীকের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে দেশের জাতীয় মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের প্রসঙ্গ তুলে যোগী বলেন, ১৯২৫ সালে রামপ্রসাদ বিসমিল, ঠাকুর রোশন সিং এবং আশফাকউল্লা খানের মতো বিপ্লবীরা ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২৬ সালকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবকে অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারকেও এদিন নিশানা করেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, একসময় বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই আইনি জটিলতা দূর করে দেশের নাগরিকদের স্বাধীনভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লখনউয়ের তিরঙ্গা যাত্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি যুবকের অংশগ্রহণকে দেশের মানুষের দেশপ্রেমের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন যোগী। ড. বি. আর. আম্বেদকর, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো দেশের সংবিধান ও আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সকলকে ‘দেশ প্রথম’ মন্ত্রে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।



