বরাক তরঙ্গ, ৯ আগস্ট : ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের অংশ হিসেবে মণিপুর, মিজোরাম ও তুয়েনসাংয়ে একাধিক দেশাত্মবোধক ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করল আসাম রাইফেলস। শুক্রবার ও শনিবার মণিপুরের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়। কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মণিপুরের সাংগাইথেল, ইম্ফল পশ্চিম, নামবোল, বিষ্ণুপুর, কাংপোকপি, চ্যান্দল, তেংনৌপাল, উখরুল ও থৌবালসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাংগাইথেলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ও ৫০ জন বাসিন্দা, বেথেল ইংলিশ স্কুল, নামবোলে ৩০১ জন শিক্ষার্থী, ওয়াইনাম গ্রামে ৭০ জন গ্রামবাসী, কমলাখংয়ে ১২০ জন বাসিন্দা এবং ওয়ারইচিংয়ে ৮০ জন গ্রামবাসী কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়াও ARPS কেইথেলমানবিতে ১৫০ জন শিক্ষার্থী, সাজিক তাম্পাকে ৮০ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক, বংজাংয়ে ১৫০ জন যুবক-যুবতী, ARPS শাংশাকে ৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক এবং লিলংয়ে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল সচেতনতামূলক আলোচনা, মতবিনিময়, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং তিরঙ্গা র্যালি। এর মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ও জাতীয় তাৎপর্য এবং তিরঙ্গার মর্যাদা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা হয়। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ দিকে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮ আগস্ট নাগাল্যান্ডের তুয়েনসাংয়েও তিরঙ্গা র্যালির আয়োজন করে আসাম রাইফেলস। র্যালির মাধ্যমে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয় পতাকার প্রতি গর্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং দেশ গঠনে সাধারণ মানুষের ভূমিকা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়।

আসাম রাইফেলসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বিশেষ করে যুবসমাজকে জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



