বরাক তরঙ্গ, ৮ আগস্ট : করিমগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে এক মহিলা রোগীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক চড় মেরেছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। ঘটনার পর চিকিৎসক ডাঃ মুকিত তাপাদারের বিরুদ্ধে পুলিশসুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাতাবাড়ি থানার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহিদ (মামন)। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগপত্রে আব্দুল ওয়াহিদ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সন্তান প্রসবের জন্য তাঁর স্ত্রীকে করিমগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই ডাঃ মুকিত তাপাদার রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছিলেন। গত ১ আগস্ট চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রোগীর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
আব্দুল ওয়াহিদের দাবি, বারবার অনুরোধ করার পরও রোগীকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় শুক্রবার তাঁর স্ত্রী চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। সেই সময় চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যেই তাঁর স্ত্রীকে চড় মারেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় তাঁর গালে হাতের দাগ পড়ে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী গোটা বিষয়টির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ পেশাগত নীতির পরিপন্থী এবং আইনত দণ্ডনীয়। একই সঙ্গে রোগীকে অযথা হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আব্দুল ওয়াহিদ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য রেকর্ড করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের একটি অনুলিপি শ্রীভূমি থানার ওসির কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে করিমগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ শুভাংশু ভট্টাচার্য জানান, ঘটনাটি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিষয়টি যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালককে জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ মুকিত তাপাদারের বক্তব্য জানা যায়নি।



