সার পাচার মামলায় নতুন মোড় : পুলিশের জালে আরও এক, একই নম্বরের দু’টি ট্রাক বাজেয়াপ্ত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট : কাছাড় জেলায় ইউরিয়া সার পাচার চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন অগ্রগতি ঘটেছে। প্রায় দুই সপ্তাহের তদন্তের পর মায়ান্মারে সার পাচারের চেষ্টার ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কাছাড় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি শিলচরের তারাপুর এলাকার বাসিন্দা জনি। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২১ জুলাই রাতে। সেদিন অসম-মিজোরাম সীমান্তের লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় খাদ্যপণ্যের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দেয় পুলিশ।
তল্লাশিতে AS 01 OC 9648 এবং AS 11 FC 8384 নম্বরের দু’টি ১২ চাকার ট্রাক আটক করা হয়। চালকদের দাবি ছিল ট্রাকে খাদ্যসামগ্রী বহন করা হচ্ছে। কিন্তু তল্লাশিতে খাদ্যপণ্যের বস্তার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়, দু’টি ট্রাকে মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি বস্তা ইউরিয়া সার ছিল।

তদন্তে পরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। পুলিশ জানতে পারে AS 11 FC 8384 রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ব্যবহার করে একাধিক ট্রাক চলাচল করানো হচ্ছিল। তদন্তের সূত্র ধরে ২৩ জুলাই ধলাই পুলিশ সোনাইয়ের নগদীরগ্রাম ৪র্থ খণ্ডের শিমুলতলা এলাকা থেকে একই নম্বরযুক্ত আরও একটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করে। লায়লাপুরে আটক হওয়া ট্রাক এবং শিমুলতলা থেকে উদ্ধার হওয়া ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক হওয়ায় তদন্ত আরও জোরদার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবহন বিভাগ ও পুলিশের নজর এড়িয়ে চোরাচালান চালিয়ে যেতেই একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল।

২১ জুলাইয়ের অভিযানে দুই ট্রাকের দুই চালক ও দুই সহচালকসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই সূত্রেই তারাপুর এলাকার জনিকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রজতকুমার পাল, ডিএসপি দিলরাজ পাঠক, ডিএসপি ভাস্কর শইকিয়া, সিডিএসপি প্রদীপকুমার এবং লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টের ইনচার্জ শুভজিৎ দত্ত তদন্ত তদারকি করেন।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, অসমের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মিজোরাম হয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে মায়ান্মারে পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে নজরদারি জোরদার হওয়ায় একের পর এক চোরাচালানের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। তদন্তে এখন পাচারকারীদের নতুন কৌশল একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ট্রাক পরিচালনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *