বরাক তরঙ্গ, ৩ আগস্ট : কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালাইনছড়া এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সকাল প্রায় ৭টার দিকে নাবালিকা স্থানীয় একটি দোকানে চিনি কিনতে গেলে দোকান মালিক জামাল উদ্দিন তাকে দুটি লাড্ডুর প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। নাবালিকার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার পরই নাবালিকার মা আরিফা বেগম (পরিবর্তিত নাম) গুমড়া পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ, অভিযোগ দায়েরের এক সপ্তাহ পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিবারের দাবি, একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও একই ধরনের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি নিজের তিন পুত্রবধূর সঙ্গেও অসদাচরণের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ওঠে এবং সেগুলি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামবাসীদের আরও দাবি, অভিযুক্ত বর্তমানে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং পুলিশ আউটপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা বলে নিজের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে দাবি করছে। এছাড়া অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ আউটপোস্টে গেলে পুলিশ উল্টো গ্রামবাসীদেরই অভিযুক্তকে ধরে দিতে বলেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সামাজিক লজ্জা ও নাবালিকার মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তারা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়েও বিচার না মেলায় অবশেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
এদিকে, গ্রামবাসীদের আনা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



