বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই: প্রয়াত সাংবাদিক মলিন শর্মার সপ্তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শিলচর প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিলচর প্রেস ক্লাব এবং ‘কেআরসি ফাউন্ডেশন মিডিয়া ওয়েলফেয়ার গ্রুপ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছর পরও তাঁর রহস্যমৃত্যুর তদন্তের সুরাহা না হওয়ায় দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং পরিবারের জন্য সুবিচারের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মলিন শর্মার কন্যা মীনাক্ষী শর্মা বলেন, বাবার মৃত্যুর সময় তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। সাত বছর কেটে গেলেও তাঁর বাবার মৃত্যুর রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি। নানা প্রতিকূলতা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁদের পরিবার দিন কাটাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে বাবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য কাতর আবেদন জানান।
শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন, তারাপুর পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে জনপ্রিয় সাংবাদিক মলিন শর্মা ঘাতক গাড়ির ধাক্কায় নিহত হলেও সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার পরও সাত বছরে পুলিশ অভিযুক্ত গাড়িটিকে শনাক্ত করতে পারেনি। তিনি একে পুলিশের চরম ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্তে গতি আনার দাবি জানান। সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য বলেন, মলিন শর্মা ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ ভিডিও সাংবাদিক। তাঁর অকাল প্রয়াণ সাংবাদিক মহলের অপূরণীয় ক্ষতি এবং তাঁর স্মৃতি চিরদিন অমলিন থাকবে।
‘আশ্বাস’ এনজিও-র সভাপতি অরুন্ধতী গুপ্ত, আইনজীবী ও সমাজকর্মী তুহিনা বিশ্বাস শর্মা, আইনজীবী আকাঙ্ক্ষা সিং এবং আইনজীবী সুপ্রতিম দাসও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা মলিন শর্মার পেশাগত নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং তাঁর কন্যা মীনাক্ষীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক সংকটে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সমাজের বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত সাংবাদিকের সহধর্মিণী সীমা শর্মা ও শাশুড়ি সাবিত্রী চক্রবর্তী।
এদিন মীনাক্ষী শর্মার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ‘দ্য মিজোরাম পোস্ট’-এর সম্পাদক বিভূতিভূষণ গোস্বামী, ‘কেআরসি ফাউন্ডেশন মিডিয়া ওয়েলফেয়ার গ্রুপ’-এর কর্ণধার সাংবাদিক বিশ্বদীপ গুপ্ত এবং অ্যাডভোকেট তুহিনা বিশ্বাস শর্মা। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।



