এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : কাটিগড়ার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের আত্মনির্ভর করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিরাজ রাইজিং এসোসিয়েশন। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের পথচলায় এই সংস্থার প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই ৩৮ জন যুবক-যুবতী ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিএসএফ, সিআরপিএফ, আসাম রাইফেলস এবং কমান্ডো বাহিনীর মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এবার সেই সাফল্যের ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এবার শুরু হচ্ছে লিখিত পরীক্ষার বিশেষ প্রশিক্ষণও। এই লক্ষ্যেই আগামী ৩ আগস্ট সূচনা করা হবে ‘বিরাজ রাইজিং ডিফেন্স ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউট’।
রবিবার কাটিগড়ায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন বিরাজ রাইজিং এসোসিয়েশনের কর্ণধার তথা সিআরপিএফের হেড কনস্টেবল বিরাজ মালাকার এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত চিরঞ্জিত দাস-সহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, এতদিন সংস্থার উদ্যোগে মূলত শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সেই প্রশিক্ষণের ফলে বহু প্রার্থী ফিজিক্যাল পরীক্ষায় সফল হলেও লিখিত পরীক্ষায় অনেকেই পিছিয়ে পড়ছিলেন। ফলে চাকরির চূড়ান্ত সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে শুধু শারীরিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। লিখিত পরীক্ষায়ও সমান দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাই ছাত্রছাত্রীদের সার্বিকভাবে প্রস্তুত করতে এবার শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানসম্পন্ন লিখিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’
নতুন বিরাজ রাইজিং ডিফেন্স ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউট-এ ছয় মাসের একটি বিশেষ কোর্স চালু করা হবে। এই কোর্সে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস, মক টেস্ট, প্রশ্নপত্র অনুশীলন এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগের মতোই শারীরিক প্রশিক্ষণও অব্যাহত থাকবে, যাতে একজন প্রার্থী লিখিত ও শারীরিক – উভয় পরীক্ষাতেই সমান দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাটিগড়া তথা বৃহত্তর বরাক উপত্যকার বহু মেধাবী যুবক-যুবতী সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে বঞ্চিত হন। নতুন এই ইনস্টিটিউট সেই অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
বিরাজ রাইজিং অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকার শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংস্থার কর্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ছেলে-মেয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজেদের কর্মজীবন গড়ার পাশাপাশি দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।



