২৬ জুলাই : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি এ দাবি করেছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহেব্বি জানান, আইআরজিসির চালানো ‘অপারেশন ভিক্টরি-২’ অভিযানে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, হামলায় আরও বহু মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের হতাহত নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রকাশিত তথ্যকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
মহেব্বি আরও দাবি করেন, ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের জন্য সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে ইরানের এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
চলতি বছরের ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন।
এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও এসব হামলার আওতায় ছিল বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ১৪ জুলাই মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপ করলে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র : তাস, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



