ভক্তি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির আবহে খালোপারে ঐতিহাসিক ১৯৬তম সপ্তরথ যাত্রা সম্পন্ন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই :
পাথারকান্দির ঐতিহাসিক খালোপারে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ১৯৬তম সপ্তরথ যাত্রা মহোৎসব। আষাঢ় মাসের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীর উপস্থিতিতে গোটা এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

শঙ্খধ্বনি, করতাল, মৃদঙ্গ ও হরিনাম সংকীর্তনের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে খালোপার। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার প্রতি অগণিত ভক্ত শ্রদ্ধা, প্রার্থনা ও ভক্তি নিবেদন করেন। ব্রহ্মশ্রী পুন্ডরীকাক্ষের প্রতিষ্ঠিত এই সপ্তরথ যাত্রা আজ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুপরিচিত।
প্রতি বছরের মতো এবারও দক্ষিণ বিলবাড়ী, উত্তর বিলবাড়ী, পাত্রগ্রাম, পেকুরগ্রাম, নয়াডহর, ছাত্রাগ্রাম ও মন্ত্রীগ্রাম—এই সাতটি গ্রামের সুসজ্জিত সাতটি রথ নির্ধারিত মিলনস্থলে এসে একত্রিত হয়। কাদা ও দুর্গম পথ অতিক্রম করে হাতির সাহায্যে রথ টেনে আনার বিরল দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমান হাজারো মানুষ। রথের অগ্রযাত্রার সঙ্গে চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি।

রথ মিলনের পর শুরু হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। ‘লেইচন্দন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজা পর্বের সূচনা হয়। এরপর সাত গ্রামের যুবক-যুবতীদের পরিবেশনায় কবি জয়দেবের ‘দশাবতার’ গীত ও ভক্তিমূলক নৃত্য উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঐতিহ্যবাহী আঙালুরি, ইনাফি ও ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি উৎসবের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

দিনভর তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ভক্তরা রথ মিলনক্ষেত্রে ভিড় জমান। শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহের সামনে প্রার্থনা করে পরিবারের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন অনেকে। মানত পূরণেও অংশ নেন বহু ভক্ত।
এই সপ্তরথ যাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।

এদিকে, খালোপার উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে আসাম সরকারের মন্ত্রী ও পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কমিটির দাবি, ব্যস্ততার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসব আয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন কমিটির সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *