রাহুল গান্ধীর কথিত ‘অগণতান্ত্রিক আচরণ’-এর প্রতিবাদে গুয়াহাটিতে বিজেপির বিক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই : লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কথিত ‘অগণতান্ত্রিক আচরণ’-এর প্রতিবাদে বুধবার গুয়াহাটির বিজেপির রাজ্য সদর দফতর অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই), পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল-সহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, দলীয় পদাধিকারী এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভস্থলে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানে মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আচরণ ও বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি অসম্মানজনক। তাঁদের দাবি, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপি অতীতেও সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ভারতের গণতন্ত্র বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং এর ভিত্তি সংবিধান, জনগণের রায় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “গণতন্ত্র, সংবিধান এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক দায়িত্ব। দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিজেপি সর্বদাই জনগণের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচার কিংবা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারের পরিবর্তে গঠনমূলক রাজনীতি করার উপর জোর দেন। কর্মসূচি শেষে বিজেপি নেতৃত্ব জানায়, দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র, সংবিধানের মর্যাদা এবং জনগণের বিশ্বাস রক্ষায় দল অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *