ইরানে আগ্রাসন নিয়ে তোপে ট্রাম্প প্রশাসন

Spread the news

২২ জুলাই : চলমান ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে শত শত কোটি ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তীব্র প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ। যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে গতকাল রাতে তিনি উপস্থিত হন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাত সামাল দিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন পেন্টাগন কর্মকর্তারা। যুদ্ধের কারণে মার্কিন বাহিনীর সামরিক গোলাবারুদ ও তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। তবে সেনাবাহিনীর প্রকৃত সক্ষমতা ও প্রয়োজন সম্পর্কে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক রিপাবলিকান সদস্য।অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের এই শুনানিতে সেনেটরদের কাছ থেকে সেনাদের আহতের তথ্য দেরিতে প্রকাশের বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন। সম্প্রতি জানা গেছে, যুদ্ধে আহত মার্কিন সেনাদের তথ্য দ্রুত প্রকাশে গড়িমসি করছে পেন্টাগন। সেন্ট্রাল কমান্ড সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঘাতক হামলার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করেনি, যার কারণে সামরিক ওয়েবসাইটে তথ্যের হালনাগাদ বেশ বিলম্বিত হয়েছে। এ বিষয়ে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, গত ৭ জুলাইয়ের পর থেকে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। গত মার্চ মাসের পর ইরানি হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির এই শুনানিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের সাথে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, এফ-১৫ ধ্বংস : জর্ডানের ভূখ-ে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেখানে থাকা সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলায় একটি মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই অভিজাত বাহিনী। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। একই হামলায় একটি সুরক্ষিত শেল্টারে থাকা এফ-১৫ যুদ্ধবিমানও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- : আমেরিকার টানা দশম রাতের বোমাবর্ষণের পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানি হামলায় কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ (ডি-স্যালাইনেশন) প্ল্যান্ট এবং কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অবকাঠামোগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস : বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে আল-রিফফা এলাকায় পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি পেট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে এসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে নির্ধারিত সামরিক স্থাপনাগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

হরমুজে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ : গতকাল হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। আইআরআইবি প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘দক্ষিণঘেঁষা অনিরাপদ অংশ’ দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। বাহিনীটির দাবি, উদ্ধারকারী দল উভয় জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন বাহিনীর তথ্যে নির্ভর না করে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে চলতে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হবে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *