এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জুলাই : মানবসেবাই পরম ধর্ম- এই আদর্শকে সামনে রেখে লায়ন্স ক্লাব অব বদরপুর গ্রেটার ২০২৬ – ২৭ কার্যবর্ষের প্রথম চক্ষু শিবির সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সোমবার কাছাড় জেলার বদরপুরঘাটস্থিত কালাইরবন্দ সরকারি সিনিয়র বেসিক স্কুল প্রাঙ্গণে এই বিনামূল্যের ক্যাটারাক্ট (চোখের ছানি) শনাক্তকরণ ও আইওএল মাইক্রোসার্জারি নির্বাচন শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
এই মহতী উদ্যোগে লায়ন্স ক্লাব অফ বদরপুর গ্রেটার ও শিলচর লায়ন্স আই হসপিটালের পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ভ্যালি স্ট্রং সিমেন্ট এবং বদরপুর সাংস্কৃতিক মঞ্চ। এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষু পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সময়মতো ছানি রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই ছিল শিবিরের মূল লক্ষ্য। শিবির উপলক্ষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এনাম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য ও শিবিরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন লায়ন্স ক্লাব অফ বদরপুর গ্রেটারের সভাপতি ডাঃ স্বপন কুমার দাস ও ক্লাবের ডিরেক্টর তথা বিভিসিএলের সিইও মুকেশ আগরওয়াল। তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া লায়ন্স আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার এবং এই ধরনের শিবির সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বক্তব্যে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিশ্বব্যাপী মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং দৃষ্টিহীনদের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে লায়ন্স আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন উভয়েই। পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত সমাজসেবী হেলেন কেলারের জীবন, সংগ্রাম এবং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক অবদানের বিভিন্ন দিক উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন।
এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রদীপ্ত কুমার দে, বোর্ড অফ ডিরেক্টর সুজিত কর, গুরু নন্দন ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক সমরজিৎ চক্রবর্তী, রাজ কুমার দপ্তরী, বিভিসিএলের জি এম ট্রান্সপোর্ট তথা লায়ন্স সদস্য পবন তুলশিয়ান, মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন চেয়ারপার্সন তথা ক্লাবের পিআরও শমীন্দ্র পাল এবং ডাঃ এমদাদুর রহমান।

এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অনুরাধা বোস ও আইনজীবী লক্ষ্মী দত্তগুপ্ত। বদরপুর সাংস্কৃতিক মঞ্চের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিতাংশু রায়, অরুণ কর্মকার, এস মণিহার সিংহ, সুবিমল বর্ধন, শিলা চৌধুরী, বিষ্ণুপদ ভট্যাচার্য্য, অনামিকা কর্মকার, সীমা মালাকার, শিখা পুরকায়স্থ সহ আরোও অনেকেই।
এদিকে শিলচর লায়ন্স আই হসপিটালের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ অপটোমেট্রিস্ট মনিদীপ চক্রবর্তী, নার্স সবিতা দেব, টেকনিশিয়ান প্রিয়াঙ্কা পণ্ডিত ও সামস উদ্দিন লস্কর অংশগ্রহণ করে দক্ষতার সঙ্গে চোখের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এদিনের শিবিরে মোট ৭৯ জনের চোখের পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর ১৬ জনের চোখে ছানি (ক্যাটারাক্ট) শনাক্ত হয়। তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইওএল মাইক্রোসার্জারির জন্য শিলচর লায়ন্স আই হসপিটালে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ৪১ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ক্লাবের পিআরও শমীন্দ্র পাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আগামী দিনেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আমাদের বিশ্বাস, এধরনের উদ্যোগ শুধু মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষাই নয়, তাদের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



