গোল্ডেন বুট দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও

Spread the news

১৮ জুলাই : প্রায় প্রতিটি আসরে হয়ে আসছে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং এই ম্যাচে করা গোলগুলো খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় যোগ হয়, যা গোল্ডেন বুট দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই ম্যাচ প্রথম চালু হয় দ্বিতীয় বিশ্বকাপে, ১৯৩৪ সালে। এরপর মাত্র তিনটি আসরে এটি হয়নি, ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টই বাতিল হয়েছিল, আর ১৯৫০ সালে ফাইনাল পর্ব রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে হওয়ায় আলাদা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়নি। ১৯৫৪ থেকে আবার চালু হয় এবং এরপর থেকে নিয়মিতই হয়ে আসছে।

তবে খেলোয়াড়দের জন্য এটি মানসিকভাবে কঠিন ম্যাচ, কারণ তারা সেমিফাইনালে হেরে হতাশ থাকে। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল যেমন বলেছেন, “কেউই এই ম্যাচ খেলতে চায় না।”

তবুও এই ম্যাচে গোল করলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগোনো যায়। তাই কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে পারেন, যদিও ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে বাদ পড়েছে।

ফাইনালের আগে সাতজন খেলোয়াড় পাঁচ বা তার বেশি গোল করেছেন। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। পরদিন ফাইনালে খেলবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।

এমবাপে ও মেসি দুজনেই আট গোল করে শীর্ষে আছেন। তবে মেসির একটি বাড়তি অ্যাসিস্ট থাকায় তিনি এগিয়ে। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড সাত গোল করেছেন, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়ায় তার সামনে আর সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের বেলিংহ্যাম ও কেইন ছয় গোল করে আছেন, ফ্রান্সের দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল করেছেন পাঁচ গোল করে।

গোল্ডেন বুটের লড়াই অনেকটাই নির্ভর করবে শনিবার ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স কতটা শক্তিশালী দল নামায় তার ওপর। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিল। তখন গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন খেলেছিলেন, কিন্তু গোল পাননি।

আগের সাতজন গোল্ডেন বুট জয়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছেন। এর মধ্যে চারজনের গোলই তাদের পুরস্কার জেতার জন্য জরুরি ছিল। জার্মানির থমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার দাভর শুকের (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচ্চি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) এই ম্যাচে গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।

পোল্যান্ডের গ্রেজগরজ লাটো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) একই ম্যাচে গোল করেছিলেন এবং গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন, তবে তাদের গোল ছাড়াও তারা পুরস্কার নিশ্চিত করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *