১৮ জুলাই : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। এ হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর একটি ইজরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিহতরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক এক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
এ হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এতে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
একই দিনে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ইজরায়েলি ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় একজন নিহত হন। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে।
যদিও গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজাজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (ACLED)-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ।
এদিকে, ইজরায়েলি দৈনিক হারেটজ-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



