বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুলাই : আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে নাবালিকাদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগে অসমের তিনসুকিয়ায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে তিনসুকিয়া পুলিশ ও জেলা শিশু কল্যাণ বিভাগ। ইতিমধ্যে ওই চক্রের কবল থেকে চার নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। জেলা শিশু কল্যাণ বিভাগের এক আধিকারিক জানান, গত ৪ জুলাই শিশু সহায়তা হেল্পলাইনে একটি অভিযোগমূলক ফোন আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে তিন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। পরে আরও এক কিশোরীকেও নিরাপদে উদ্ধার করে শিশু নিবাসে রাখা হয়।
উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের বয়ান অনুযায়ী, তিনসুকিয়া শহরের শ্রীপুরিয়া এলাকার ৭০০ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরতলার ভাড়াবাড়ি থেকে এই অবৈধ চক্র পরিচালিত হতো। অভিযোগ, ‘দাস’ পদবিধারী এক মহিলা এই চক্রের মূল হোতা। তিনি এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই মহিলার মেয়ে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সমবয়সি কিশোরীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত। পরে তাদের বাড়িতে ডেকে এনে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন শোষণমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে চাপ দেওয়া হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিশোরীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পর সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হতো। গ্রাহকদের সঙ্গে দরদাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তাদের তিনসুকিয়ার একাধিক নামী হোটেল, ডিব্রুগড়ের কয়েকটি হোটেল এবং প্রতিবেশী রাজ্য অরুণাচলের কিছু রিসর্টে নিয়ে যাওয়া হতো। এসব অভিযোগ বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন।
এছাড়াও উদ্ধার হওয়া কিশোরীরা শিশু কল্যাণ বিভাগকে জানিয়েছে, ওই ভাড়াবাড়ি থেকেই মাদকদ্রব্য সরবরাহের কাজও চলত বলে তাদের সন্দেহ। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই শিশু কল্যাণ বিভাগ তিনসুকিয়া সদর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বুধবার অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক মাদকাসক্ত মহিলা এবং এক যুবকও রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, অভিযোগে শহরের কয়েকটি পরিচিত হোটেলের নাম উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরো ঘটনার সূক্ষ্ম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তিনসুকিয়া পুলিশ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক শহর তিনসুকিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নারীপাচার ও দেহব্যবসা চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে।



