ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই শুরু হচ্ছে ডুরান্ড কাপ, গুয়াহাটিতে ট্রফি উন্মোচন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুলাই : ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যেই শুরু হতে চলেছে এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপ। কলকাতা, গুয়াহাটি, শিলং, ইম্ফল এবং রাঁচি—দেশের এই পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ডুরান্ড কাপের ১৩৫তম আসর। এটি এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো এবং বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা।

২০২২ সালের পর টানা পঞ্চমবারের মতো অসমেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত ডুরান্ড কাপের মোট ছয়টি ম্যাচ গুয়াহাটির সরুসাজাইস্থিত ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত গ্রুপ-এফ-এর চারটি দলের মধ্যে মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

গ্রুপ-এফ-এ রয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি, বড়োল্যান্ড এফসি, কার্বি আংলং মর্নিং স্টার এফসি এবং এফসি ওয়ান ক্লাব। এর মধ্যে বড়োল্যান্ড এফসি ও কার্বি আংলং মর্নিং স্টার এফসি অসমের দুটি দল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৌজন্যে এবং অসম সরকারের সহযোগিতায় গুয়াহাটিতে এই ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে ডুরান্ড কাপের ১৩৫তম আসরের ট্রফি উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষে শহরের তাজ ভিভান্তা হোটেলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসম সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী বিশ্বজিৎ দৈমারী। অনুষ্ঠানে ডুরান্ড কাপের তিনটি ঐতিহ্যবাহী ট্রফি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিশ্বজিৎ দৈমারী বলেন, “ডুরান্ড কাপের ১৩৫ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এটি এশিয়ার প্রথম ফুটবল প্রতিযোগিতা। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। এটি দেশের জন্য গর্বের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “ফুটবল আমাদের সংস্কৃতির অংশ। অসম ফুটবলের রাজ্য। একসময় এমন খুব কম ছেলে ছিল, যারা ফুটবল খেলত না। সবাই ফুটবল ভালোবাসত। কিন্তু আমরা আনন্দের জন্য খেলেছি, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে নয়। সেই কারণেই আজও ভারত ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। আমাদের এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আমি চাই, একদিন ভারতকে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “যেমন সৈনিক স্কুল রয়েছে, তেমনভাবেই ফুটবলের জন্য বিশেষ একাডেমি গড়ে তোলার কথা ভাবা যেতে পারে। আমরা সাধারণত খেলোয়াড় তৈরি করি না, বরং ভালো খেলোয়াড় খুঁজে আনি। অথচ আমাদের নিজেদেরই খেলোয়াড় তৈরি করা উচিত। এই উদ্যোগ ভারতীয় সেনাবাহিনী নিতে পারে। মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তারা স্থায়ী নন, তাই সরকারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন। কিন্তু সেনাবাহিনী এ ধরনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *