অগণিত ভক্তের ঢলে মুখর বৃহত্তর লোয়াইপোয়া, সাড়ম্বরে পালিত রথযাত্রা

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুলাই :
ভক্তি, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহে বৃহত্তর লোয়াইপোয়া ব্লকজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পূজার্চনা, নাম-সংকীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, রথ পরিক্রমা, সন্ধ্যা আরতি ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি সম্পন্ন হয়। রথের রশিতে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা অঞ্চল ভক্তিমুখর হয়ে ওঠে।

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাজারিছড়া জগন্নাথ আশ্রম। সকাল থেকেই সেখানে ভক্তদের ঢল নামে। শাস্ত্রবিধি মেনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রার বিশেষ পূজার্চনা, মঙ্গল আরতি, নাম-সংকীর্তন ও ভজন অনুষ্ঠিত হয়। “জয় জগন্নাথ” ধ্বনি এবং হরিনামে আশ্রম প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

দুপুরে শতাধিক ভক্তের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকেলে সুসজ্জিত রথে জগন্নাথ দেবকে অধিষ্ঠিত করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। রথটি বাজারিছড়া, কালাছড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক পরিক্রমা করে পুনরায় আশ্রমে ফিরে আসে। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণদের উৎসাহে রথের রশি টানার দৃশ্য উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সন্ধ্যায় বিশেষ আরতি, গীতাপাঠ, নাম-সংকীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনভর আশ্রম চত্বর ভক্তি ও উৎসবের আবহে মুখর ছিল।

শুধু বাজারিছড়াই নয়, লোয়াইরপোয়া, শিবেরগুল, কালাছড়া, সলগই, রাধাপ্যারী, নুরখা, বালিপিলা, রাঙ্গামাটি, মানিকবন্দসহ বৃহত্তর লোয়াইপোয়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে রথযাত্রা পালিত হয়। স্থানীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পূজার্চনা, কীর্তন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রথ পরিক্রমার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি এলাকায় রথের রশিতে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মেলারও আয়োজন করা হয়। খেলনা, মিষ্টান্ন, ধর্মীয় সামগ্রী, গৃহস্থালির পণ্য ও শিশুদের বিনোদনের নানা আয়োজনে মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ উৎসব ও মেলার আনন্দে শামিল হন।

উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বাজারিছড়া পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন, টহলদারি জোরদার এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *