রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে শীঘ্রই গড়ে উঠবে নতুন রাজস্ব চক্র ও সার্কল অফিস

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুলাই : রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে খুব শীঘ্রই নতুন রাজস্ব চক্র (Revenue Circle) এবং সার্কল অফিস স্থাপন করা হবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার চলতি বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিধানসভার বিশেষ কক্ষ থেকে জেলার কমিশনার (ডিসি) ও সার্কল অফিসারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকও করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্গঠনের পর পঞ্চায়েতগুলির পুনর্বিন্যাস হলেও বহু কেন্দ্রে এখনও রাজস্ব চক্রগুলির পুনর্গঠন কেন্দ্রভিত্তিক হয়নি। ফলে একটি কেন্দ্রের রাজস্ব চক্র বা রাজস্ব গ্রাম অন্য একটি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আবার কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে কোনও রাজস্ব চক্রই নেই, যার কারণে সেগুলি পাশের কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিটিসি অঞ্চল বাদে রাজ্যের বাকি ১০৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুধনৈয়ের বালিজানা রাজস্ব চক্রের সঙ্গে গোয়ালপাড়া পূর্ব কেন্দ্রের গ্রাম যুক্ত রয়েছে। একইভাবে বরক্ষেত্রী কেন্দ্রের একটি পঞ্চায়েত বরপেটা কেন্দ্রের সঙ্গে এবং টিংখংয়ের কিছু গ্রাম নাহারকাটিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। তাই জেলা প্রশাসনকে দু’দিনের মধ্যে একটি প্রস্তাবিত খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও বিধানসভা কেন্দ্রের গ্রাম যেন সংশ্লিষ্ট বিধায়কের এলাকার বাইরে না থাকে এবং রাজস্ব চক্রের কাজে কোনও বিধায়ককে অন্য কেন্দ্রে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, কোথাও বিদ্যমান রাজস্ব চক্র তুলে দেওয়া হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু গ্রামগুলির পুনর্বিন্যাস করা হবে। যেসব কেন্দ্রে একটি রাজস্ব চক্রও নেই, সেগুলির তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বরপেটা জেলার পকাবেতবাড়ি ও চেঙা, বঙ্গাইগাঁও জেলার শ্রীজনগ্রাম, কাছাড় জেলার বরখলা ও ধলাই, ধুবুড়ি জেলার বীরশিংজারুয়া, ডিব্রুগড় জেলার খোৱাং, গোয়ালপাড়া জেলার জলেশ্বর, কামরূপ মেট্রো জেলার মধ্য গুৱাহাটী, লখিমপুর জেলার নাওবৈচা, তিনসুকিয়া জেলার মাকুম ও ডিগবই এবং শোণিতপুর জেলার রঙাপাড়া, বিশ্বনাথ চারিআলি ও বিহালী—এই সব বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনও রাজস্ব চক্র নেই। সরকার অবিলম্বে প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে নতুন রাজস্ব চক্র গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পকাবেতবাড়ি কেন্দ্রের সমস্ত গ্রাম পকাবেতবাড়ি রাজস্ব চক্রের আওতায় এবং চেঙা কেন্দ্রের সমস্ত গ্রাম চেঙা রাজস্ব চক্রের আওতায় আনা হবে। একইভাবে গুৱাহাটীর পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথক পাঁচটি রাজস্ব চক্র থাকবে। কোনও কেন্দ্রের সঙ্গে অন্য কেন্দ্রের আর ওভারল্যাপ থাকবে না।

তিনি জানান, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে কোথাও রাজস্ব চক্র বড় হবে, কোথাও ছোট হবে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রামগুলিকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বিভিন্ন রাজস্ব চক্রে ভাগ করে দেওয়া হবে। কোনও বিদ্যমান রাজস্ব চক্র বাতিল করা হবে না।

বান পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি সপ্তাহেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে গ্রাম পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন রাজস্ব চক্রও গঠন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *