মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ জুলাই : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুল জলিল আর নেই। শনিবার বিকেলে শিলচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
দক্ষিণ করিমগঞ্জের সৈদপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং মানবিক আচরণের জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। অবসর গ্রহণের পরও শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং তরুণদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শিলচরের জীবন জ্যোতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যা, তিন বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি শ্রীভূমি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম) হানিফ আহমেদের পিতা।
তাঁর মৃত্যুতে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল জলিল ছিলেন একজন সৎ, কর্মনিষ্ঠ ও নীতিবান ব্যক্তি। শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তন ছাত্রনেতা এজেড এম ইকবাল খান, শ্রীভূমি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক, চিকিৎসক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও পৃথক শোকবার্তায় সমবেদনা জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা থেকেই সৈদপুরে তাঁর বাড়িতে শোকাহত মানুষের ভিড় দেখা যায়।
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবার বিকেল ৫টায় সৈদপুর মাজার প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শুভানুধ্যায়ীর কাছে জানাজায় উপস্থিত থেকে প্রয়াতের রুহের মাগফিরাত কামনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



