এস পাল, কাটিগড়া
বরাক তরঙ্গ, ১১ জুলাই : জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য খনন করা গভীর নালা ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগের মধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আট বছরের এক শিশুর। শনিবার কাটিগড়া থানার অন্তর্গত তারিণীপুর প্রথম খণ্ড এলাকায় ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন সড়কের পাশে খনন করা জল ভর্তি গভীর নালা থেকে কামিল হোসেন মজুমদার (৮) নামে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত কামিল হোসেন মজুমদার তারিণীপুর প্রথম খণ্ডের বাসিন্দা তাজ উদ্দিন মজুমদারের পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা প্রায় ১২টার দিকে কামিল বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
দীর্ঘ তল্লাশির পর বেলা প্রায় ২টার দিকে ভারতমালা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণকাজের জন্য খনন করা একটি গভীর নালার জলে কামিলকে ডুবে থাকা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আট বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
ঘটনার পরই নির্মাণাধীন সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণের জন্য রাস্তার পাশে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ ও গভীর নালা খনন করা হয়েছে। বর্ষার জলে এসব নালা ভরে যাওয়ায় কোথাও কোথাও গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, রেলিং কিংবা সতর্কীকরণ চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের বক্তব্য, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন গভীর নালা দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং পথচারীদের জন্য এই নালাগুলি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। কামিলের মৃত্যুর পর গ্রামবাসীর প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে – জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালীন জননিরাপত্তার বিষয়টি কেন যথাযথ গুরুত্ব পাবে না? স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ নালাগুলির চারপাশে সময়মতো ব্যারিকেড বা রেলিং বসানো এবং স্পষ্ট সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেত।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তারিণীপুর প্রথম খণ্ডে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এনএইচআইডিসিএল-এর বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাণাধীন সড়কের পাশে থাকা সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ গভীর নালা ও গর্ত দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যারিকেড, রেলিং এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই আট বছরের কামিলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অন্তত কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে এবং নির্মাণকাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে – এমনটাই প্রত্যাশা তারিনিপুরবাসীর।



