গুয়াহাটি–মুম্বাই সাপ্তাহিক ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি নিয়ে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে বৈঠক আমিনুর রশিদের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই :
বরাক উপত্যকার মানুষের বহুদিনের মুম্বাইমুখী রেল-দুর্ভোগ দূর করতে উদ্যোগী হলেন শ্রীভূমি জেলার দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী। এই লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি মালিগাঁওয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) মহাব্যবস্থাপক আশিস বানসালের সঙ্গে বৈঠক করে গুয়াহাটি–মুম্বাই সাপ্তাহিক ট্রেনের সংখ্যা এক থেকে বাড়িয়ে দুই করার দাবি জানান।

জানা গেছে, বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা ও মিজোরামের বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা এবং ব্যবসার কাজে নিয়মিত মুম্বাই-সহ পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু আগরতলা–গুয়াহাটি–মুম্বাই রুটে সপ্তাহে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় টিকিটের তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উৎসবের মরশুম কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে বিমানপথে যাতায়াত করছেন, আবার অনেকের সফর বাতিল করতেও হচ্ছে।
সম্প্রতি মুম্বাই সফরের সময় প্রবাসী বরাকবাসী এবং অসমীয়া সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এই সমস্যার কথা বিধায়ক সামিমের কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত একটি সাপ্তাহিক ট্রেন চালু হলে বরাক উপত্যকার পাশাপাশি দক্ষিণ অসম, ত্রিপুরা ও মিজোরামের হাজার হাজার যাত্রী সরাসরি উপকৃত হবেন।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে এনএফআরের মহাব্যবস্থাপক আশিস বানসালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিধায়ক। তিনি যাত্রীচাহিদা, টিকিট সংকট এবং বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরে দ্রুত দ্বিতীয় সাপ্তাহিক ট্রেন চালুর ওপর জোর দেন। বৈঠকে মহাব্যবস্থাপক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

বৈঠক শেষে আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, বরাক উপত্যকার মানুষের ন্যায্য দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা তাঁর দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

বিধায়কের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বরাকবাসীরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত সাপ্তাহিক ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রী দুর্ভোগই কমবে না, বরং বরাক উপত্যকা, দক্ষিণ অসম, ত্রিপুরা ও মিজোরামের সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগও আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *