“বিপ্লবীর ছবি যদি আঁকতেই হয়, তাহলে পরেশ বরুয়ার ছবিই আঁকুন!”— কেন ক্ষোভের সুরে এমন মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : গণেশগুড়ি উড়ালসেতুতে জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের একটি ম্যুরাল কিছুদিন আগে মুছে ফেলা এবং পরে শতাধিক জুবিন-অনুরাগীর উপস্থিতিতে সেটি পুনরায় আঁকা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে শুক্রবার প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশের কাছে দুই রংমিস্ত্রি জবানবন্দিতে বলেছেন যে তারা ছবিটিকে জুবিন গর্গের ছবি বলে চিনতে পারেননি বলেই সেটি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, “দু’জন পেইন্টার থানায় জানিয়েছেন, এটি জুবিন গর্গের ছবি বলে মনে হয়নি, তাই মুছে দিয়েছেন। ঠিকাদারও একজন অসমিয়া এবং তিনজনই জুবিনের ভক্ত। আমরা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারিনি এটি জুবিন দার ছবি।'”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানেও যে ছবি আঁকা হয়েছে, সেটিও তাঁর কাছে জুবিন গর্গের সঙ্গে খুব একটা সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে হয় না। তাঁর মতে, জুবিন গর্গের পরিবার একটি নির্দিষ্ট ছবি প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে সবাই সেই ছবির ভিত্তিতেই ম্যুরাল আঁকতে পারবেন। এতে বিভ্রান্তি ও অদ্ভুত ধরনের প্রতিকৃতি আঁকার প্রবণতা কমবে।

এদিন তিনি অভিযোগ করেন, উড়ালসেতুতে ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীটি এসএফআই-এর সদস্য। তাঁর দাবি, তারা প্রথমে উড়ালসেতুর বিরোধিতা করে, পরে সেটিতেই ছবি এঁকে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া ওই গোষ্ঠী উড়ালসেতুতে ছবি আঁকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চে গুয়েভারার ম্যুরাল প্রসঙ্গও তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে চে গুয়েভারার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, যদি বিপ্লবী ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকতেই হয়, তবে অসমের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ছবি আঁকা উচিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি পরেশ বরুয়া ও প্রয়াত সাংবাদিক পরাগ দাসের নাম উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *