বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : শ্রমিকদের অধিকার, নতুন শ্রম আইন এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুক্রবার শিলচরের একটি হোটেলে একদিনের শ্রম সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ভারতীয় রেলওয়ে মল গোদাম শ্রমিক সংঘ (বিআরএমজিএসএস), এনএফআর জোন, লামডিং ডিভিশন, ত্রিপুরা রাজ্যের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের শ্রম আইন, চারটি শ্রম কোড, কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (ইপিএফও), কর্মচারী রাষ্ট্র বিমা নিগম (ইএসআইসি) এবং সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য চালু বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শ্রম কমিশনার (কেন্দ্রীয়) তপন চাকমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিআরএমজিএসএস-এর জাতীয় ইনচার্জ মনোরঞ্জন কুমার এবং এনএফআর জোনের প্রতিনিধি সুমিত রায়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তপন চাকমা বলেন, এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত এবং এখনও সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে রয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার অসংগঠিত শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একাধিক শ্রম সংস্কার কার্যকর করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগের ৪৩টি শ্রম আইনকে একীভূত করে বর্তমানে চারটি শ্রম কোড প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ফলে আইন আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ন্যূনতম মজুরি, সময়মতো বেতন, আইনসিদ্ধ বোনাস, নিয়োগপত্র, বেতন স্লিপ, অভিজ্ঞতার শংসাপত্র, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময়, নির্দিষ্ট মেয়াদের চাকরি এবং বার্ধক্যকালীন পেনশনের মতো সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে শ্রমিকরা অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রমিকদের নতুন শ্রম আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানান তপন চাকমা।
বিআরএমজিএসএস-এর জাতীয় ইনচার্জ মনোরঞ্জনকুমার বলেন, শ্রমিক কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রম আইন ও শ্রম কোডে আরও উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।
তিনি জানান, আগামী ১৫ জুলাই বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হবে। এছাড়া শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
সুমিত রায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুমিত রায়।



