টেকসই কৃষির পথে উপজাতীয় কৃষকরা, লোয়াইরপোয়ায় কেভিকে শ্রীভূমির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই:
উপজাতীয় কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিকে আরও লাভজনক করে তোলা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীভূমি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে)। ট্রাইবাল সাব প্ল্যান (টিএসপি) কর্মসূচির আওতায় পাথারকান্দি বিধানসভার লোয়াইরপোয়া উন্নয়ন খণ্ডের যোগিছড়া গ্রামে নির্বাচিত উপজাতীয় কৃষক পরিবারের হাতে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, আধুনিক চাষাবাদ এবং জীবিকাভিত্তিক আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়।

চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৩০টি উপজাতীয় কৃষক পরিবারকে মাছ-হাঁস-লেবু এবং মাছ-ছাগল-লেবু সমন্বিত কৃষি (আইএফএস) মডেল, উন্নত জাতের পিগলেট, সবজি বীজ, মুরগির বাচ্চাসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, একই জমিতে বহুমুখী কৃষি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর পাশাপাশি কৃষক পরিবারের পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বৈজ্ঞানিক শূকর পালন, হাঁস-মুরগি পালন, আধুনিক মৎস্যচাষ, ফল ও সবজি চাষ, উদ্যানপালন এবং বিতরণ করা উপকরণের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন কেভিকের বিজ্ঞানীরা। কৃষকদের স্বল্প বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক কৃষি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদের সদস্য স্বপন দাস, বিজেপি মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব চক্রবর্তী, গ্রাম পঞ্চায়েত সভানেত্রী বর্ণালী সিনহা, সমাজসেবী সম্পা চৌধুরী, কেভিকে শ্রীভূমির মুখ্য বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. পুলকাভ চৌধুরী, ড. জয়শিখ সোনোয়াল এবং ড. পুরবী তামুলি ফুকন।

ড. পুলকাভ চৌধুরী বলেন, সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা বর্তমান সময়ে কৃষিকে লাভজনক করার অন্যতম কার্যকর উপায়। একই খামারে মাছ, পশুপালন, হাঁস-মুরগি, ফল ও সবজি চাষের মাধ্যমে ঝুঁকি কমে, উৎপাদন বাড়ে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতেও কেভিকের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন। মতবিনিময় পর্বে তাঁরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক উপজাতীয় কৃষকের কাছে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ টেকসই কৃষি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *