লোয়াইরপোয়া ব্লকে বৈজ্ঞানিক কৃষি চর্চায় জোর, নারকেলভিত্তিক টেকসই কৃষিতে কেভিকে শ্রীভূমির উদ্যোগ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই :
শ্রীভূমি জেলার কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং নারকেলভিত্তিক টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে লোয়াইরপোয়া উন্নয়ন ব্লকে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), শ্রীভূমির দ্বিতীয় বর্ষের “লেইং আউট অব ডেমনস্ট্রেশন প্লটস (LODP)” কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, শ্রীভূমি এবং নারকেল উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়, গুয়াহাটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নারকেল চাষ, সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃফসল চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এদিন নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার, উন্নতমানের নারকেলের চারা এবং উচ্চ ফলনশীল অসম লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারকেল গাছে সঠিকভাবে সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমন, মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশিক্ষণে নারকেল বাগানে অসম লেবুকে আন্তঃফসল হিসেবে চাষের সুবিধা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই জমিতে আন্তঃফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন, জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং কৃষিতে আর্থিক ঝুঁকিও কমবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদের সদস্য স্বপন দাস, বিজেপি মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব চক্রবর্তী, লোয়াইরপোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী বর্ণালী সিনহা, লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপির সভানেত্রী সম্পা চৌধুরী, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, শ্রীভূমির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. পুলকাভ চৌধুরী, বিষয় বিশেষজ্ঞ ড. জয়শিখ সোনোয়াল এবং ড. পুরবী তামুলি ফুকন। বক্তারা কৃষকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও উন্নতমানের কৃষি উপকরণ পাওয়ায় তাঁরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নারকেল ও আন্তঃফসল চাষে আরও উৎসাহিত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।

কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, শ্রীভূমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *