প্রকাশ্য রাস্তায় প্রেমিকার পেটে একের পর এক ছুরির কোপ, মৃত্যু

Spread the news

৮ জুলাই : প্রকাশ্য রাস্তায় প্রেমিকাকে কুপিয়ে খুন। এরপরই আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্তের। সকালের ব্যস্ত সময়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ফিউচার গেট এলাকার স্কুল রোডে প্রকাশ্য রাস্তায় এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্যে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান এলাকার মানুষজন।

অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই নৃশংস ঘটনা। প্রেমিকাকে রক্তাক্ত করার পর অভিযুক্ত যুবক নিজের পেটেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম গীতা দাস, বছর ৩৩ বয়স। তিনি সোদপুরের নাটাগড় এলাকার মহেন্দ্রনগরের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে প্রায়শই তাঁদের মধ্যে প্রকাশ্যে অশান্তি ও বচসা লেগেই থাকত বলেও জানা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে ফিউচার গেট এলাকায় দু’জনের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। আচমকাই অভিযুক্ত যুবক একটি ধারালো ছুরি বের করে গীতা দাসের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। অভিযোগ, তাঁদের দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যান ওই অভিযুক্ত। পরে নিজের পেটেও ছুরি মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। একসময় রক্তাক্ত প্রেমিকাকে জড়িয়ে রাস্তার উপরেই পড়ে থাকতে দেখা যায় অভিযুক্তকে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা গীতা দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্ত যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার পিছনে প্রেমঘটিত বিবাদই প্রাথমিক কারণ বলে অনুমান করা হলেও, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এমন ঘটনার দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন।

আহত ব্যক্তির নাম সুভাষ দাস। সম্পর্কে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী বলেই জানা যাচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উপ নগরপাল কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান সাংসারিক কলহের জেরেই স্বামীর হাতে খুন হতে হয় স্ত্রীকে। বর্তমানে হাসপাতালে সুভাষ দাসের অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *