৮ জুলাই : গোটা দেশকে সাক্ষী রেখে ২০২৪–এর ২২ জানুয়ারি মহাসমারোহে পালিত হয়েছিল অযোধ্যার রামন্দিরের রামলালার ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’। সেই অনুষ্ঠানের পুরোধা ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টিভির পর্দায় সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য দেখেছিল গোটা বিশ্ব৷ ‘প্রণামী চুরি’ তদন্তে কিন্তু এ বার সেই অনুষ্ঠানও চলে এল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সিটের (স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম) রাডারে। ওই একদিনেই নাকি ১১৩ কোটি টাকা খরচ করেছে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট!
সূত্রের দাবি, ডোনেশন–কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে রামমন্দিরের পুরো অডিট রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে সব পেমেন্ট ভাউচার! সূত্রের খবর, সিটের নজরে রয়েছে রামমন্দিরের আরও তিনটি বড় অনুষ্ঠান— ২০২৫–এর জানুয়ারিতে মন্দিরের ‘প্রথম প্রতিষ্ঠা দ্বাদশী’ উদ্যাপন, ওই বছরেই মহাকুম্ভের আয়োজন এবং ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠান। সব অনুষ্ঠানেই উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
সূত্রের খবর, ওই তিন–চার দিনের অনুষ্ঠানেই ১২৪ কোটি টাকারও বেশি ফান্ড বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সিট! তবে সব থেকে বেশি আলোচনা চলছে ‘একদিনেই ১১৩ কোটি খরচ’ নিয়ে। রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিনে অন্তত ৮ হাজার অতিথি এসেছিলেন মন্দিরে। তাঁদের জন্য টেন্ট–সিটি বানাতেই নাকি খরচ হয়েছিল ৩৬ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন বাবদই অন্তত ৫০ কোটি টাকা ঢেলেছিল ট্রাস্ট। ডেকোরেশন–লাইটিংয়ে খরচ প্রায় ১৫ কোটি!
এর পাশাপাশি, সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে ৪৫ দিনের মধ্যে ৭০টি চুরির ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। এই মর্মেই তদন্তকারী দল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘চূড়ান্ত গাফিলতি’-র উল্লেখ করেছে বলে খবর৷ এই সব ‘গাফিলতি’র মধ্যে রয়েছে— সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ মনিটরিং সংক্রান্ত ত্রুটি, ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ সংক্রান্ত অব্যবস্থা, মন্দিরে মোতায়েন রক্ষীদের বডি সার্চ করার পদ্ধতিতে ত্রুটি, প্রণামী বাক্সে জমা পড়া নগদ টাকা এবং সোনা–রুপোর হিসেব রক্ষায় ত্রুটি, রাতপাহারায় কড়া নজরদারির অভাব, রক্ষীদের ভেরিফিকেশনে গাফিলতির মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কী ভাবে এই সব ত্রুটি সামনে এসেছে, ৯ পাতার রিপোর্টে তার সবিস্তার উল্লেখ করে সিট জানিয়েছে, ৬ মাস বা ১৮০ দিনের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও ২৭ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সিটের দাবি, প্রণামীতে জমা পড়া বিপুল টাকা এবং গয়নার হিসেব রাখার জন্য কোনও যুক্তিগ্রাহ্য বা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ছিল না! ৫০০ টাকার বান্ডিলের মধ্যেই নাকি মিশিয়ে দেওয়া হতো ৫০, ১০০ বা ২০০ টাকার নোট৷ এ সবের কারণ কি শুধুই লোকাভাব, নাকি সুকৌশলে এমনটা করা হতো? খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সিট প্রশ্ন তুলেছে মন্দিরের নিরাপত্তা বন্দোবস্ত নিয়েও। যথাযথ পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই নাকি চুক্তিভিত্তিক রক্ষী নিয়োগ করা হয়েছিল মন্দিরে। এর পিছনেও সুপারিশের খেলা আছে কি না, তদন্ত করছে সিট।
খবর : এই সময় অনলাইন।



