মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। সোমবার রাতে শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জেলার সার্বিক উন্নয়নে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আগামী দিনে এই দুই ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে মন্ত্রী বলেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও আবেগ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, একটি জেলার প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ, সচেতন ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত চেতনার বিকাশ ঘটবে। তাই জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতার সুযোগ এবং আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য শুধু দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করা নয়, বরং একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যয়ের বার্তা বহন করে। যুবসমাজকে সুস্থ, সবল ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারই ছিল অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য।



