এরালিগুলের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে সাইবার অপরাধ ও  নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক বক্তৃতা

Spread the news

জনসংযোগ, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : ডিজিটাল যুগে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার শ্রীভূমি জেলার এরালিগুলস্থিত পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে (পিডিইউএএম), “সাইবার অপরাধ ও সাইবার নিরাপত্তা” বিষয়ক এক সচেতনতামূলক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, শ্রীভূমি শাখার প্রধান ব্যবস্থাপক শ্রী রজত কান্তি দাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী

মহাবিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সর্বদা সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি ও প্রয়োজনের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে তিনি মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি কমিউনিটি হল নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়গুলিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। মূল বক্তা রজতকান্তি দাস তাঁর বক্তব্যে ফিশিং, ওটিপি জালিয়াতি, ভুয়া ঋণ প্রস্তাব, অনলাইন শপিং প্রতারণা এবং ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের কৌশল সম্পর্কে বিশদভাবে আলোকপাত করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে পাসওয়ার্ড, পিন, সিভিভি নম্বর এবং ওটিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্কিং তথ্য কখনও কারও সঙ্গে ভাগ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং অনলাইন লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. জয়শ্রী চক্রবর্তী প্রধান অতিথি আমিনুর রশিদ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি মূল বক্তা রজতকান্তি দাসকে সাইবার সচেতনতা বিষয়ে তথ্যবহুল ও সময়োপযোগী বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তৃতা পর্বের পর অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্র-ছাত্রীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং সাইবার জালিয়াতি প্রতিরোধ ও অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে। মূল বক্তা তাঁদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেন এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে বেশ কিছু কার্যকর পরামর্শ দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। উপস্থিত সকলেই এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সাইবার সচেতনতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের বার্তা আরও সুদৃঢ়ভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *