১২ জুন : একদিকে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, অন্যদিকে তীব্র সামরিক সংঘাত। বিশ্বকাপের মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। মার্কিন মুলুকে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে কোনো রকম ‘অস্বীকৃত’ পতাকা প্রদর্শন বা ইরান-বিরোধী স্লোগান দেওয়া হলে, তৎক্ষণাৎ ম্যাচ বয়কট করার নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ইরান। কোনও রকম বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানি দল আর মাঠে থাকবে না বলে ফিফাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধকালীন আবহের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়ল ফুটবল মাঠে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি আয়োজক দেশ ও ফিফাকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আমরা ফিফাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, আমাদের ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে কোনও অস্বীকৃত পতাকা আনা হলে বা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে কোনো স্লোগান দেওয়া হলে, দলের কোচ সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ বন্ধ করার অনুরোধ জানাবেন।” ইরান কোনও মতেই সেই ম্যাচ আর খেলবে না।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ইরানি ফুটবল দল কিন্তু আমেরিকায় থাকছে না। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ঘাঁটি গেড়েছে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোয়। সূচি অনুযায়ী, ম্যাচের দিন তারা আমেরিকায় গিয়ে খেলে আবার মেক্সিকোয় ফিরে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক জটিলতার কারণে ইরানের বহু সাধারণ সমর্থক ম্যাচ দেখার জন্য আমেরিকার ভিসাই পাননি।
আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে ইরান। এরপর তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। তবে বিশ্বমঞ্চে ইরানের আসল লক্ষ্য মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচটি। সিয়াটলে হতে যাওয়া গ্রুপের শেষ ম্যাচটিকে খোদ ইরান ‘গর্বের ম্যাচ’ বলে ঘোষণা করেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, মিশর ম্যাচে যাতে কোনো অনভিপ্রেত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
খেলার মাঠে এই রাজনৈতিক দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল।



