বরাক তরঙ্গ, ৯ জুন : ডিব্রুগড় শহরের শান্তিপাড়া এলাকার পিএন রোড থেকে এক তরুণী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ডিব্রুগড় পুলিশ। সোমবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া ওই তরুণীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার দিনই তিনসুকিয়া রেলস্টেশন থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে তিনসুকিয়া পুলিশ, পরে তাকে ডিব্রুগড় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উদ্ধারের পর তরুণী অপহরণের এক শিহরণ জাগানো বর্ণনা দেন। তবে তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ডিব্রুগড় পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, তরুণীকে বানীপুর রেলস্টেশনসহ একাধিক জায়গায় একাই চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে অপহরণের অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
ডিব্রুগড় পুলিশের দাবি, মডেলিং ক্যারিয়ার গড়ার উদ্দেশ্যে তরুণী নিজ ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তার বাবা-মা মডেল হওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে একমত ছিলেন না। সেই কারণে পরিবারের কাউকে না জানিয়েই তিনি অটোরিকশায় করে বানীপুর রেলস্টেশনে পৌঁছান এবং সেখান থেকে ট্রেনে ওঠেন।
পুলিশ আরও জানায়, তিনসুকিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছে তরুণী ভয় পেয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। পরে তিনি ফোনে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেন যে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তদন্তে তার সেই দাবি সমর্থন করার মতো কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি তার শরীরে জোরপূর্বক আটকে রাখা বা অপহরণের কোনও চিহ্নও পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তরুণীকে ইতিমধ্যে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তরুণী প্রথমে অভিযোগ করেছিলেন যে প্রাতঃভ্রমণের সময় পিছন থেকে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে মাদকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন অবস্থায় ডিব্রুগড় থেকে অপহরণ করেছিল। তবে পুলিশের তদন্তে সেই অভিযোগের অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তথাকথিত অপহরণের ‘নাটক’ ফাঁস হয়ে যায়।



